ফুটবল ইতিহাসের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মধ্যে কে সেরা—এই বিতর্কে বিভক্ত গোটা ফুটবল দুনিয়া। দীর্ঘদিন মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখোমুখি হলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। সম্প্রতি সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন মেসি নিজেই। জানালেন, রোনালদোর প্রতি তার শ্রদ্ধা থাকলেও তারা বন্ধু নন।
ডি-স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “আমার রোনালদোর প্রতি অনেক শ্রদ্ধা ও প্রশংসা আছে, তার দুর্দান্ত ক্যারিয়ারের জন্য—এবং সে এখনো শীর্ষ পর্যায়ে খেলছে। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল শুধুই মাঠে। আমরা দুজনই নিজেদের দলের জন্য সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে মাঠের বাইরে আমরা দুজন সাধারণ মানুষ। আমরা বন্ধু নই, কারণ আমাদের একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়নি। কিন্তু আমরা সবসময় একে অন্যকে সম্মান করেছি।”
মেসির এই বক্তব্য এসেছে রোনালদোর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জবাবে। কয়েক সপ্তাহ আগেই রোনালদো বলেছিলেন, “মেসির প্রতি আমার ভালোবাসা আছে, যদিও আমরা দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম। আমি তাকে ভালোবাসি, কারণ সে আমাকে সবসময় সম্মান করেছে।”
এমন পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা সত্ত্বেও, তাদের মধ্যে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই—এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মেসি। এটি দেখায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তারা একে অপরকে ছোট করেননি কখনও।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও এই দুই মহাতারকা আলোচনায়। মেসি ক্লাব বিশ্বকাপে ইন্টার মায়ামির হয়ে ইউরোপিয়ান ক্লাব পোর্তোর বিপক্ষে একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোল করেন, যা ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় এনে দেয় তার দলকে। এটি প্রথমবার, কোনো কনকাকাফ ক্লাব ফিফার অফিসিয়াল টুর্নামেন্টে ইউরোপীয় ক্লাবকে হারাল।
অন্যদিকে, রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে উয়েফা নেশন্স লিগ জিতেছেন। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে ২-২ গোলে ড্র করার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জয় পায় পর্তুগাল। সেই ম্যাচে সমতাসূচক গোলটি করেছিলেন রোনালদো নিজেই।
তবে ক্লাব বিশ্বকাপে রোনালদোর অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে, কারণ তার ক্লাব আল-নাসর এবারের ৩২ দলের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি।
মেসি-রোনালদোর দ্বৈরথ হয়তো এখন অতীতের মতো তীব্র নয়, তবে ফুটবল ইতিহাসে তাদের নাম চিরকালই পাশাপাশি উচ্চারিত হবে। মেসির কথাতেই সেটি প্রতিফলিত হয়—প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে, কিন্তু শ্রদ্ধার কোনো ঘাটতি নেই। তবে বন্ধুত্ব? সেটা নয়।



