কাশ্মীর সমস্যা সমাধান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার। তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যু দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব এবং এটি অবশ্যই কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সমাধান করতে হবে। সম্প্রতি ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির কর্মকাণ্ডে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ মে) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন ইফতিখার। তার মতে, কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে কাশ্মীরি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেসামরিক জনগণের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগও তোলেন।
পাকিস্তান স্পষ্ট করে জানায়, পেহেলগামের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন যে, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তান ৯০ হাজারের বেশি প্রাণ উৎসর্গ করেছে এবং আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে।
এছাড়াও ভারত কর্তৃক সিন্ধু পানি চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত ইফতিখার জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তির জন্য জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৈঠকের শুরুতে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে রাষ্ট্রদূত ইফতিখার পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে ভারত ও পাকিস্তানকে সর্বোচ্চ সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। পেহেলগামের ২২ এপ্রিলের হামলাকে নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।



