দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র নয় মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৭১৯ টাকা। মার্চে ১ হাজার ৩৪১ টাকা দামের একটি সিলিন্ডারের মূল্য নভেম্বর মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়। অর্থাৎ, এই সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ।
দামের হিসাব অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবরে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এরপর নভেম্বর মাসে আরও ২২৩ টাকা বাড়িয়ে সিলিন্ডারের দাম করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। এর আগে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে দাম বেড়েছিল ২৪৪ টাকা।
পরপর কয়েক মাসে বড় অঙ্কের মূল্যবৃদ্ধির ফলে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবার দৈনন্দিন রান্নার কাজে সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের মাসিক সংসার খরচে এর প্রভাব পড়ছে। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বড় শহরগুলোতে পাইপলাইনের গ্যাসের সংযোগ না থাকা এবং নতুন সংযোগ সীমিত থাকায় অনেক পরিবার এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে। ফলে দাম বাড়লে সরাসরি বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
এলপিজির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট খরচ বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করে।
তবে বিইআরসির নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া সিলিন্ডারের দামের পার্থক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরও বাজারে এলপিজি কমিশন নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে।



