চট্টগ্রামের ইপসাহানি এলাকায় ছিনতাইকারীকে ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সিএমপির মুখপাত্র আমীরুল করিম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইপসাহানি চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন আল আমিন। এ সময় ছিনতাইকারী ধরার চেষ্টার মধ্যে একটি বাসের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
আল আমিন সরদার সিএমপির পুলিশ লাইন্সের এসএএফ শাখায় কর্মরত ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনের সময় ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে নিজের জীবনই হারাতে হলো এই পুলিশ সদস্যকে।
পুলিশের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা নয়, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করতে হয়। আল আমিনের ঘটনাটি সেই বাস্তবতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অপরাধী ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি যে আত্মত্যাগ করেছেন, তা সহকর্মী ও স্বজনদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
মাদারীপুরের বাসিন্দা আল আমিন ছিলেন এক সন্তানের জনক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তার স্বজনদের জীবনে নেমে এসেছে অপূরণীয় শূন্যতা। একজন বাবা, স্বামী ও পরিবারের সদস্য হিসেবে তার অনুপস্থিতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
আল আমিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন পুলিশ সদস্যের এমন মৃত্যু পুরো পুলিশ বাহিনীর জন্যই বেদনাদায়ক।
অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা প্রতিদিন ঝুঁকি নেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। আল আমিন সরদারের মৃত্যু যেন শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর হয়ে না থাকে, বরং দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আসে।
একজন পুলিশ সদস্যের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা তার পরিবারের জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও গভীর বেদনার। আল আমিন সরদারের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে তার সহকর্মী, স্বজন এবং দায়িত্ব পালনের পথে তার পাশে থাকা মানুষগুলো।



