আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে যেন রূপকথার মতো বিদায় নিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট করে দলকে জেতানোর পর আবেগঘন মুহূর্তে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তাঁর বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অপেক্ষা করছিলেন হাজারো সমর্থক।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও স্টেডিয়াম ছাড়েননি দর্শকেরা। প্রিয় মেসিকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর অপেক্ষায় থাকা সমর্থকদের জন্য এরপর শুরু হয় দৃষ্টিনন্দন ড্রোন শো। শত শত ড্রোনের আলোয় প্রথমে ফুটে ওঠে আর্জেন্টিনার পতাকা। এরপর আকাশে ভেসে ওঠে ‘মেসি, ১০’ লেখা। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।
এরপর আসে রাতের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত। ড্রোনের আলোয় তৈরি করা হয় ২০২২ বিশ্বকাপ হাতে মেসির অবয়ব। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন তিনি লালন করেছেন, বিদায়ের রাতেও সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ফিরে আসে মনুমেন্টালের আকাশে। একপর্যায়ে ড্রোনের আলোয় ভেসে ওঠে ‘গ্রাসিয়াস, লিও’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ, লিও’। এরপর দেখা যায় ‘গ্রাসিয়াস, আর্জেন্টিনা’ লেখা এবং সবশেষে ফুটে ওঠে মেসির মুখের অবয়ব।
মাঠের দৃশ্যও তখন আবেগে ভরা। সতীর্থদের মাঝে দাঁড়িয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি মেসি। অশ্রুসিক্ত অধিনায়ককে ঘিরে একে একে দাঁড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। করতালি, ভালোবাসা ও আবেগে হাজারো সমর্থক তাঁদের প্রিয় অধিনায়ককে বিদায় জানান।
বিদায়ী ম্যাচটিও মেসির জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয়। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই সরাসরি অবদান রাখেন তিনি। নিকোলাস ওটামেন্দি ও নিকো পাজকে দিয়ে দুটি গোল করানোর পর ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করেন। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচেও একটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট দিয়ে ক্যারিয়ারের আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করেন এই মহাতারকা। ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেমে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ার থামল ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টে।



