বিজ্ঞানের রহস্য উন্মোচন এবং মেধার চর্চায় একই পরিবারের চার সদস্যের অনন্য অবদান শিক্ষাঙ্গনে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই একটি পরিবারেরই চারজন প্রখ্যাত পদার্থবিদের জীবন ও কর্মধারা। শিক্ষা, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জন করে তাঁরা দেশের উচ্চশিক্ষাকে করেছেন সমৃদ্ধ।
এই বিরল ও অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রার মূল কাণ্ডারি ছিলেন অধ্যাপক এ কে এম আজহারুল ইসলাম এবং তাঁর সহধর্মিণী অধ্যাপক শামসুন নাহার। দুজনেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং পরবর্তীতে একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জ্ঞানার্জনের লালনায় তাঁরা পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে। সেখান থেকে অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম সম্পন্ন করেন পোস্টডক্টরাল গবেষণা এবং অধ্যাপক শামসুন নাহার অর্জন করেন থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সে পিএইচডি ডিগ্রি। দেশে ফিরে তাঁরা বহু শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যান।
বাবা-মায়ের সেই জ্ঞানের মশাল পরম শ্রদ্ধায় হাতে তুলে নেন তাঁদের কন্যা অধ্যাপক রায়হানা শামস ইসলাম। পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখে তিনিও বেছে নেন পদার্থবিজ্ঞানের জগতকে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করে বিদেশের আকর্ষণীয় জীবনের বদলে তিনি ফিরে আসেন নিজ মাতৃভূমিতে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন।
শিক্ষায় পরিবারের এই অসাধারণ ধারা আরও পূর্ণতা পায় যখন পরিবারের চতুর্থ সদস্য হিসেবে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব যুক্ত হন। রায়হানা শামস ইসলামের স্বামী অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বখ্যাত ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরি থেকে উচ্চতর গবেষণা ও ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনিও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছেন।
একই পরিবারের চারজন সদস্যের বিশ্বমানের বিদ্যাপীঠে (কেমব্রিজ ও ইম্পেরিয়াল কলেজ) গবেষণা করা এবং দিনশেষে দেশের মেধা বিকাশে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসে এক বিভাগে আলো ছড়ানো সত্যি এক অনুপ্রেরণাদায়ক ইতিহাস। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁদের এই অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় উৎসাহিত করবে।



