কক্সবাজারের উখিয়া থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ইয়াবা পাচারের উদ্দেশ্যে এক ভয়াবহ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছে দেশের এক চিহ্নিত মাদক পাচারকারী সিন্ডিকেট। নিষ্পাপ শিশুদের ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়াই ছিল এই অপরাধী চক্রের মূল উদ্দেশ্য। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের অসহায়ত্ব এবং সামান্য টাকার লোভকে কাজে লাগিয়ে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর জীবনকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। তথ্যে উঠে এসেছে, মাত্র ৪ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের দিয়ে এই বিপজ্জনক কাজটি করানো হয়, যেখানে মোট ১৩৩টি বিশেষ প্যাকেটে মোড়ানো ৬,৬১৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট তাদের পেটে গিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) আনোয়ারা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক সন্দেহভাজন নারীসহ ওই দুই শিশুকে আটক করে। শিশুদের শারীরিক অবস্থা ও ঘটনার মূল বিষয় বুঝতে পেরে র্যাব আর কোনো সময় নষ্ট না করে দ্রুত তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল জরুরি ভিত্তিতে তাদের ভর্তি করেন এবং নিবিড় মেডিকেল তত্ত্বাবধানে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শিশুদের পেট থেকে একে একে ইয়াবার ক্যাপসুলগুলো উদ্ধার করেন। সময়মতো হাসপাতালে আনার কারণে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দুই শিশুই শারীরিক দিক থেকে স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ বা আন্ডার অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।
এই জঘন্য ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের এমন ভয়াবহ উপায়ে পাচারের কাজে ব্যবহার করা কেবল আইনি অপরাধই নয়, এটি চরম মানবেতর ও নিকৃষ্টতম ঘটনা। ঘটনার মূল হোতা, এই পাচার প্রক্রিয়ার অর্থদাতা এবং নেপথ্যে থাকা আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় সিন্ডিকেটের সদস্যদের হদিস পেতে র্যাব তাদের তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। জনদাবি উঠেছে, কোমলমতি শিশুদের জীবন ধ্বংসকারী এবং তাদের পদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারী এই নিষ্ঠুর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।



