আগামী দুই শতকের মধ্যে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে কি না—এই সংবেদনশীল প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞান অনুরাগী হুমায়ূন আহমেদ মানবজাতির টিকে থাকা নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। ২০০৫ সালে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক নাসির আলী মামুনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নিয়ে তাঁর অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইনে পুরোনো এই সাক্ষাৎকারটি পুনরায় প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
সাক্ষাৎকারে হুমায়ূন আহমেদ উল্লেখ করেন, পৃথিবী হঠাৎ করে বা মানবসৃষ্ট উদ্বেগে অচিরেই সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কায় তিনি বিশ্বাস করেন না। প্রকৃতির স্বয়ংক্রিয় পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ওজোন স্তরে ক্ষত তৈরি হলেও প্রকৃতি নিজের নিয়মে তা নিরাময়ের ব্যবস্থা করে মানুষকে রক্ষা করে। একইভাবে সৌরজগতের জ্যোতির্বিজ্ঞানগত কাঠামোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বৃহস্পতি গ্রহের প্রচণ্ড অভিকর্ষ বলের কারণে মহাকাশের বহু বিপজ্জনক উল্কাপাত পৃথিবীর দিকে না এসে বৃহস্পতির দিকে আকৃষ্ট হয়, যা প্রকারান্তরে পৃথিবীকে সুরক্ষার এক প্রাকৃতিক বা ঐশ্বরিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
বিজ্ঞান ও দর্শনের মিশেলে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল—গড অলমাইটি বা প্রকৃতি যেভাবে পৃথিবীকে সুবিন্যস্ত ও সুরক্ষিত করে রেখেছে, তা সহজে ধসে পড়ার নয়। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক বিশ্বাস করতেন যে প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৃষ্টিজগতের সুরক্ষা বলয় মানবজাতিকে দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখবে। প্রায় দুই দশক আগে প্রদত্ত তাঁর এই দূরদর্শী ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান পরিবেশগত উদ্বেগের যুগেও মানুষকে আশাবাদী হতে এবং মহাবিশ্বের নিয়মকে গভীর দৃষ্টিতে দেখতে উৎসাহিত করছে।



