নেপালের রসুয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও কাদা ধসের পর এক অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হলো পুরো বিশ্ব। হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টের সুরঙ্গে টানা ৯ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় সাহকে। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি যে চরম সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা শুনে চোখ ভিজে উঠছে সবার।
দুর্ঘটনার মুহূর্তটির কথা স্মরণ করে সঞ্জয় জানান, প্রলয়ঙ্করী বন্যা আসার সময় তিনি নিজে পালিয়ে না গিয়ে প্রথমে অন্য সহকর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেন। অন্যদের প্রাণ বাঁচানো নিজের পরম দায়িত্ব মনে করে তিনি পিছু হটেননি। ফলে সহকর্মী কবির মহারজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই আটকা পড়েন আঁধার ঘেরা অন্ধকূপের মতো সুরঙ্গের গভীরে।
পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল তাদের দুজনকে মূর্ছিত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখান থেকে বের করে আনে। বন্যাবিধ্বস্ত এই হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্পের সুরঙ্গগুলো থেকে তারাই প্রথম অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তি। উদ্ধার করার পর দ্রুততম সময়ে দুজনকেই কাঠমান্ডুর একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তবে স্বস্তির পাশাপাশি এই খবর আরও এক আশঙ্কার বার্তা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সুরঙ্গের গভীরে এখনও অন্তত ৯০০ জন মানুষ আটকা পড়ে আছেন। সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজনের ফিরে আসা পুরো উদ্ধারকারী দল ও নিখোঁজদের স্বজনদের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।



