ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার সাধারণ কৃষক আইয়ুব আলী প্রাকৃতিক ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ও শ্রমে রাস্তার দুই পাশে তিনি প্রায় ৫,০০০ ফলের গাছ রোপণ করেছেন। দীর্ঘ চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কেবল গাছ লাগানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিগত বছরের পর বছর ধরে তিনি একা হাতে এসব গাছের নিরলস যত্ন ও পরিচর্যা করে আসছেন। কোনো চারাগাছ মারা গেলে সেখানে নতুন চারা রোপণ করা, নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করা এবং গাছের সঠিক বৃদ্ধির জন্য ডালপালা ছেঁটে দেওয়াসহ সমস্ত কাজ তিনি পরম মমতায় সম্পন্ন করেন।
আইয়ুব আলীর এই নীরব বিপ্লবের সুফল এখন পাচ্ছেন পথচারী ও এলাকাবাসী। বর্তমানে তাঁর লাগানো গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে পেয়ারা, আম, আমড়া, কাঁঠাল, জাম্বুরাসহ নানান পদের সুস্বাদু ফল। তবে বাণিজ্যিক ফলচাষিদের মতো এই ফল বিক্রি করে কোনো মুনাফা অর্জন তাঁর উদ্দেশ্য নয়। রাস্তার ধারের এই উন্মুক্ত বাগান থেকে ফল বিক্রির কোনো ব্যবস্থা তিনি রাখেননি। ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী যেকোনো পথচারী, দিনমজুর কিংবা ভ্রমণকারী সানন্দে গাছ থেকে ফল পেড়ে খেতে পারেন এবং প্রয়োজনমতো বাড়িতেও নিয়ে যেতে পারেন, যার জন্য কাউকে কোনো অর্থ দিতে হয় না।
মানুষের পাশাপাশি এই ফলগাছগুলো স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। আশেপাশের পাখি ও বানরদের জন্য এটি এখন খাদ্যের নিরাপদ উৎসে পরিণত হয়েছে। কে কতটুকু ফল নিয়ে গেল বা খেল, তার কোনো হিসেব বা খাতা তিনি রাখেন না। তাঁর মতে, তৃষ্ণার্ত পথচারী, পরিশ্রমী মেহনতি মানুষ এবং অবোধ প্রাণীরা যখন তাঁর হাতের লাগানো গাছে এসে তৃপ্তি মেটায়, সেই দৃশ্য দেখাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মানসিক শান্তি ও পুরস্কার। নিঃস্বার্থ সমাজসেবা ও পরিবেশ সংরক্ষণের এই উদ্যোগ অনুপ্রেরণা জোগায় আমাদের সবাইকে।



