উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট’ ও ‘ভিসা গাইড’-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হয়ে চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন ৩৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাটারা ও উত্তরা কেন্দ্রিক পরিচালিত এই এজেন্সিগুলো স্টুডেন্ট ও ফ্যামিলি ভিসার ভুয়া আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থী প্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। প্রায় ১৫.৫ থেকে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে হঠাৎ কার্যালয় গুটিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা নিঃস্ব হয়ে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভাটারা থানা পুলিশ উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর থেকে মূল হোতা মো. মতিউর রহমান (যিনি হারুন অর রশীদ নামেও পরিচিত) সহ তার স্ত্রী ও শ্যালককে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, অস্ট্রেলিয়া পালিয়ে যাওয়ার ঠিক দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে রওনা করার মুহূর্তেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন এবং এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জমি বিক্রি, স্বর্ণালংকার বন্ধক ও কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে বর্তমানে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। প্রতারিত হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং এই আন্তর্জাতিক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। একই সাথে শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহল বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এডুকেশন কনসালটেন্সি এজেন্সিগুলোর ওপর কঠোর সরকারি নীতিমালা ও নজরদারি প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন।



