ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দায়িত্ববোধ, সততা ও মানবতার এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল অমিত হাসান। প্রমত্তা তিতাস নদীর তীরে ঘটে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক ঘটনা মুহূর্তে রূপ নেয় বীরত্ব ও জীবন বাঁচানোর এক অসম সাহসিকতার গল্পে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী পারিবারিক বা মানসিক চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। নদীটির স্রোত এবং গভীরতা দুটিই ছিল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা মাত্রই সেখানে দায়িত্বরত কনস্টেবল অমিত হাসান এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করেননি। নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা চিন্তা না করে, পরনের পোশাক ও সরঞ্জাম নিয়েই প্রমত্তা নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি।
স্রোতের সাথে লড়াই করে এবং নিজের জীবন বাজি রেখে তিনি সেই তরুণীকে আঁকড়ে ধরেন এবং অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে নিরাপদে তীরে তুলে নিয়ে আসেন। অমিতের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও অসীম সাহস না থাকলে হয়তো একটি তাজা প্রাণ অকালেই ঝরে যেত।
কনস্টেবল অমিত হাসানের এই মানবিক ও সাহসী পদক্ষেপ শুধু একটি প্রাণ বাঁচায়নি, বরং সমাজ ও জনগণের সুরক্ষায় পুলিশ বাহিনীর যে মূল প্রতিশ্রুতি—তারই এক উজ্জ্বল প্রমাণ তুলে ধরেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপদ—সবখানেই এখন কনস্টেবল অমিতের প্রশংসার জোয়ার বইছে। দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে তিনি এখন এক সত্যিকারের বীর বা রিয়েল লাইফ হিরো।



