পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাঠে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, লুকাস পাকেতা কিংবা এনদ্রিকের মতো তারকাদের সরাসরি মাঠে দেখার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই। তবে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, ব্রাজিলের মতো বিশ্বসেরা একটি দলকে আতিথেয়তা দিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করবে না সরকার। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে আগ্রহী নয় সরকার।
তবে অতীতের উদাহরণ বলছে, এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন হয়। ২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়ার ঐতিহাসিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল, যা সে সময়ের হিসাবে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ কোটি টাকার সমান ছিল।
এবার ব্রাজিলকে ঢাকায় এনে ম্যাচ আয়োজনের প্রাথমিক ব্যয় প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। মুদ্রাস্ফীতি ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বিপুল ব্যয় বহন করতে রাজি নয় সরকার।
তবে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বাফুফে কিংবা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় স্পনসর সংগ্রহ করতে পারলে সরকার ম্যাচ আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে ম্যাচ আয়োজনের আর্থিক দায়ভার স্পনসরদের বহন করতে হবে।
ফলে ব্রাজিলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে বেসরকারি অর্থায়ন ও স্পনসরশিপের ওপর। ব্রাজিলের মতো বিশ্বখ্যাত দলের বাংলাদেশ সফর বাস্তবে রূপ নিলে তা দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে।



