ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও মেটা এআইয়ের মতো অ্যাপের মাধ্যমে অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করছে মেটা। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ইউরোনিউজের এক প্রতিবেদনে এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্কের পরিচালিত গবেষণায় গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন ও মেটার তৈরি অ্যাপ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ১৭১টি অ্যাপ নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। ব্যবহারকারীর তথ্যের ৩৫টি ধরনকে গবেষণার আওতায় রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ব্রাউজিং ইতিহাস, সঠিক অবস্থান, কেনাকাটার তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মেটার অ্যাপগুলো গড়ে ৩৫ ধরনের তথ্যের মধ্যে ২৫ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। এই হার সংশ্লিষ্ট বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। মাইক্রোসফট ও অ্যাপলের অ্যাপগুলোর তুলনায় মেটার অ্যাপগুলো গড়ে তিন গুণেরও বেশি ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপগুলোর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও মেটা এআই। এ ছাড়া মেটা হরাইজন, মেটা অ্যাডস ম্যানেজার, মেটা বিজনেস স্যুট ও ফোরামের মতো অ্যাপও তালিকায় রয়েছে। তুলনামূলকভাবে গুগলের অ্যাপগুলো গড়ে ১৭ ধরনের, অ্যামাজন ১২ ধরনের, মাইক্রোসফট ৮ ধরনের এবং অ্যাপল ৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে।
তবে সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপের সংখ্যার দিক থেকে গুগল এগিয়ে রয়েছে। গবেষণায় বিশ্লেষণ করা ৪০টি বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপের মধ্যে ২৯টি গুগলের। মেটার রয়েছে ৯টি এবং অ্যামাজনের ২টি অ্যাপ। গবেষকদের মতে, গুগলের প্রতিটি অ্যাপ মেটার তুলনায় গড়ে কম ধরনের তথ্য সংগ্রহ করলেও প্রতিষ্ঠানটির বিশাল অ্যাপ ইকোসিস্টেমের কারণে ব্যবহারকারীর তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যায়।
মেটার বাইরে সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহকারী অ্যাপগুলোর মধ্যে অ্যামাজনের ‘অ্যালেক্সা’ শীর্ষে রয়েছে। অ্যাপটি ৩৫ ধরনের তথ্যের মধ্যে ২৮ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে অ্যাপল ও মাইক্রোসফটকে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা গেছে। বিশেষ করে অ্যাপলের ইউটিলিটি অ্যাপগুলো গড়ে মাত্র ৬ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। একই ধরনের গুগলের অ্যাপগুলো গড়ে ১৭ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে। গবেষণাটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর তথ্য কতটা সংগ্রহ ও ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে নতুন করে গোপনীয়তা সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে।



