ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে লিওনেল মেসিকে ঘিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের কঠিন লড়াইয়ের পর দলের নিয়মিত অনুশীলনে দেখা যায়নি আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে। তবে বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ওলে–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি কোনো চোটে আক্রান্ত নন; বরং দীর্ঘ সময়ের ম্যাচের ধকল কাটিয়ে ওঠার জন্য তাকে বিশেষ পুনরুদ্ধার (রিকভারি) প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনাকে টানা দুটি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে খেলতে হয়েছে। শেষ ষোলোতে মিশর এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফল না আসায় আরও ৩০ মিনিট করে খেলতে হয়েছে দলটিকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মেসিসহ পুরো দলের ওপর পড়েছে বাড়তি শারীরিক চাপ। কোচিং স্টাফ মনে করছে, সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মেসিকে পূর্ণ ফিট রাখতে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল না পেলেও আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন মেসি। ২০২২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি গোলশূন্য থাকলেও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের গোল তৈরির পেছনে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া অতিরিক্ত সময় শুরুর আগে নিজেও একটি দারুণ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে দলের ক্লান্তির বিষয়টি স্বীকার করেন মেসি নিজেও। তিনি বলেন, টানা কঠিন ম্যাচের কারণে পুরো দল কিছুটা ক্লান্ত অনুভব করছে। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালের আগে দ্রুত নিজেদের সেরা অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সবাই কাজ করছে। মেসির ভাষায়, “আমরা অবশ্যই ক্লান্ত, কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব নিজেদের প্রস্তুত করে তুলব। সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাচ অপেক্ষা করছে। ফাইনালে উঠতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত।”
সব মিলিয়ে মেসির অনুশীলনে অনুপস্থিতি নিয়ে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হলেও আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় কোনো শঙ্কা নেই। বরং সেমিফাইনালের আগে তাকে শতভাগ ফিট ও সতেজ রাখতেই সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে কোচিং স্টাফ।



