ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ড গড়া ও ভাঙার গল্প থাকলেও কিছু কীর্তি এখনও অমলিন হয়ে আছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফরাসি কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইনের এক বিশ্বকাপে ১৩ গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে গড়া এই মাইলফলক আজও অক্ষত রয়েছে। তবে চলমান বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই রেকর্ড। অনেকের বিশ্বাস, ভাগ্য ও পারফরম্যান্স সহায় হলে তাদের মধ্য থেকেই কেউ একজন হয়তো স্পর্শ করতে পারেন কিংবা ভেঙে দিতে পারেন ফন্টেইনের দীর্ঘদিনের অদম্য কীর্তি।
বর্তমান বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে দুজনই এখন পর্যন্ত আটটি করে গোল করেছেন এবং নিজেদের দলকে সেমিফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেমিফাইনালে জয় বা পরাজয়—উভয় ক্ষেত্রেই তাদের সামনে আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। ফলে গোলসংখ্যা বাড়ানোর সুযোগও থাকছে। তবে ফন্টেইনের ১৩ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করতে তাদের প্রয়োজন আরও পাঁচটি গোল, আর রেকর্ড ভাঙতে করতে হবে অন্তত ছয়টি গোল।
মেসির এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল দারুণ উজ্জ্বল। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে দলকে বড় জয় এনে দেন তিনি। পরের ম্যাচে আরও দুটি গোল যোগ করেন, আর তৃতীয় ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেও গোলের দেখা পান। নকআউট পর্বে তিন ম্যাচে দুটি গোল করে নিজের গোলসংখ্যা আটে নিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অন্যদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পেও সমান তালে গোল করে চলেছেন। গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচে জোড়া গোল করার পর নকআউট পর্বেও ধারাবাহিকভাবে গোল করে আট গোলের মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন ফরাসি এই তারকা।
বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডধারী জাস্ট ফন্টেইন ১৯৫৮ সালে মোট ১৩ গোল করেছিলেন। সেই আসরে তিনি দুটি হ্যাটট্রিকসহ গ্রুপ পর্বে ছয় গোল করেন। পরে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আরও সাত গোল যোগ করে ইতিহাস গড়েন। বিশেষ করে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তার চার গোল আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
যদিও মেসি ও এমবাপ্পে দুজনই অসাধারণ ফর্মে রয়েছেন, তবুও ফন্টেইনের রেকর্ড ভাঙা সহজ হবে না। সর্বোচ্চ দুটি ম্যাচে পাঁচ বা ছয় গোল করা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যামও গোলের দৌড়ে থাকলেও তাদের জন্য কাজটি আরও কঠিন। তাই বলা যায়, ফন্টেইনের রেকর্ড এখনও নিরাপদ অবস্থানেই রয়েছে। তবে ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখানোর গল্প। আর তাই বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে সবার চোখ থাকবে মেসি ও এমবাপ্পের দিকে—তারা কি ইতিহাসের অন্যতম কঠিন রেকর্ডটিকে ছুঁতে পারবেন?



