২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬ শেষ হতেই শিরোপা জয়ের নতুন সমীকরণ সামনে এসেছে। মাঠের পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। ‘গাতো মেস্ত্রে’ নামক একটি বিশ্লেষণী দলের গাণিতিক মডেলে এই চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদ ব্রুনো ইমাইযুমির নেতৃত্বে গাণিতিক এই মডেলটি তৈরিতে চারটি প্রধান উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে—প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি), ফিফা র্যাঙ্কিং, খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য এবং বিশ্বকাপের অতীত ইতিহাস। এই মডেলে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনায় সবার উপরে থাকা ফ্রান্সের সম্ভাবনা ২৪.৪ শতাংশ।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন, যাদের সম্ভাবনা ২৩.২ শতাংশ। আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১৮.৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এই তিন দলের পর কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। টমাস টুখেলের দলের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা ১০.৭ শতাংশ। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সেমিফাইনালে ওঠার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে এই চার দলেরই। তালিকায় থাকা অন্য দলগুলোর মধ্যে বেলজিয়াম (৭.৪%), নরওয়ে (৫.৩%), সুইজারল্যান্ড (৫.৩%) এবং মরক্কো (৫%) তুলনামূলক কম সম্ভাবনা নিয়ে রয়েছে।
গাতো মেস্ত্রে দলের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, রাউন্ড অব ১৬-এ বেলজিয়ামের যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ের পর থেকে দলগুলোর শক্তির ভারসাম্য ও পরিসংখ্যানগত মানদণ্ডে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মূলত বেলজিয়ামের এই জয়ের পরই সমীকরণ বদলে গিয়ে ফ্রান্সকে এক নম্বরে নিয়ে এসেছে। তবে পরিসংখ্যান যাই বলুক, ব্রুনো ইমাইযুমি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। তিনি বলেন, ‘এটি মূলত কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার ঠিক আগের একটি গাণিতিক পরিসংখ্যান। এটি একটি গাণিতিক সম্ভাবনা যা ম্যাচের ফলাফলের সাথে সাথে বদলে যায়।’
গাতো মেস্ত্রে দলের এই বিশ্লেষণে সাংবাদিক ও ডেটা সায়েন্টিস্টদের সম্মিলিত কাজ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—আর্থার স্যান্ডেস, দাভি বারোস, ফেলিপে তাভারেস, গুইলহার্মে ম্যানিয়াউডেট, গুস্তাভো ফিগুয়েইরেদো, লিয়ান্দ্রো সিলভা, লরাইন ভিয়েরা, রবার্তো মালেসন, রদ্রিগো ব্রেভেস, ভালমির স্তোর্তি, ডেটা সায়েন্টিস্ট ব্রুনো বেনিসিও, ভিতর পাতালানো এবং প্রোগ্রামার গুস্তাভো মাসেদো। আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই। রোমাঞ্চকর লড়াইগুলোই ঠিক করে দেবে শেষ পর্যন্ত কোন দল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে।



