আগামী বুধবার (১৭ জুন) আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনের শুরুতে কঠিন প্রতিপক্ষ পেলেও লিওনেল মেসির উপস্থিতি আলবিসেলেস্তেদের আশাবাদী করে তুলেছে। ব্যক্তিগতভাবে এই টুর্নামেন্ট মেসিকে এক অসাধারণ অর্জনের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এবার মাত্র তিনটি গোল করলেই তিনি ছুঁয়ে ফেলতে পারেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের মালিক জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল)।
এবারের আসর ও নিজের রেকর্ড নিয়ে মতামত জানিয়েছেন ক্লোসা। তিনি বলেছেন, ‘মেসি চাইলে আমার রেকর্ড ভাঙতে পারে, স্বাগতম। আমি তার বড় ভক্ত, সবসময়ই ছিলাম।’ নিজের রেকর্ড নিয়ে কোনো স্বার্থপরতা না দেখিয়ে তিনি বরং চান কেউ তাকে ছাড়িয়ে যাক। ক্লোসার ভাষ্য, ‘আমি আশা করি এই টুর্নামেন্টেই আমার রেকর্ড ভেঙে যাবে। যেহেতু আরও বেশি দল অংশ নিচ্ছে, ম্যাচের সংখ্যাও বেশি, তাই গোল করার সুযোগও বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স টুর্নামেন্টে ভালো দূর পর্যন্ত যাক।’
সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ তারকা ক্লোসা মেসি ও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির প্রশংসাও করেন। মেসি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মেসি একজন জিনিয়াস।’ স্কালোনি সম্পর্কে বলেন, ‘আমি তাকে খুব সম্মান করি। ইতালির লাজিওতে আমরা একসঙ্গে খেলেছি এবং তিনি আমাকে রোম শহরটি ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। আমরা ভালো বন্ধু।’
প্রসঙ্গত, পাঁচটি বিশ্বকাপে মেসির মোট গোল ১৩টি। তিনি আরেকটি গোল করলে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের (১৪ গোল) সমান হবেন। দুটি গোল করলে ব্রাজিলিয়ান তারকা রোনালদো নাজারিওর (১৫ গোল) সঙ্গে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবেন। আর ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোল। ক্লোসা তার ক্যারিয়ারে মোট ৩২৬ গোল ও ১১০ অ্যাসিস্ট করেছেন। জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপের বাইরে ক্লাব পর্যায়ে তিনি দুবার বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়ন ও একবার কোপা ইতালিয়া জিতেছেন। উল্লেখ্য, ক্লোসা তার ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তিনবার খেলেছেন—২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এবং ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে, প্রতিবারই জার্মানি জয়ী হয়েছিল।



