বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, মানুষসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতোই ব্যথা অনুভব করতে পারে গলদা চিংড়ি (লবস্টার)। রান্নার আগে তাদের ফুটন্ত পানিতে জীবন্ত সেদ্ধ করা সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি, যা তাদের চরম যন্ত্রণা দেয়। এই প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা দ্রুত আইনের মাধ্যমে লবস্টার জীবন্ত সেদ্ধ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক ছিল—লবস্টারের শারীরিক প্রতিক্রিয়া কি সত্যিই ব্যথার অনুভূতি, নাকি নিছক রিফ্লেক্স। সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ‘নরওয়ে লবস্টার’-এর ওপর পরীক্ষা চালান। বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার পর দেখা যায়, যেসব লবস্টারকে ব্যথানাশক দেওয়া হয়নি তারা লেজ ঝাপটে পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অ্যাসপিরিন বা লিডোকেন দেওয়া লবস্টারগুলো তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। অর্থাৎ, তাদের ব্যথা অনুভবের প্রক্রিয়া মানুষের মতোই।
গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক এলেফথেরিওস ক্যাসিউরাস জানান, ব্যথানাশকের প্রতি সাড়া দেওয়ার অর্থ এটি শুধু রিফ্লেক্স নয়। যুক্তরাজ্যে লবস্টারকে সংবেদনশীল প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হলে জীবন্ত সেদ্ধ নিষিদ্ধ করা উচিত। অধ্যাপক লিন স্নেডন বলেন, খোলসযুক্ত প্রাণীদের জীবন্ত সেদ্ধ করা মানবিক নয়—গরু বা মুরগি যেমন আমরা সেদ্ধ করি না, তেমনি এই প্রাণীদের ক্ষেত্রেও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি রাজ্যে লবস্টার জীবন্ত সেদ্ধ করা ইতিমধ্যে বেআইনি। যুক্তরাজ্যেও নতুন বিলে তা নিষিদ্ধ হতে পারে। বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রথমে লবস্টারকে ১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফ্রিজারে ১৫-৩০ মিনিট রেখে অবশ করতে হবে। তারপর মাথার পেছনের স্নায়ুকেন্দ্রে ধারালো ছুরি বা স্ক্রু ড্রাইভার ঢুকিয়ে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। বড় পরিসরে বৈদ্যুতিক শক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর পুরো প্রক্রিয়াই যদি নিষ্ঠুর মনে হয়, তবে লবস্টারের বদলে ‘কিং অয়েস্টার মাশরুম’ বা ‘পাম গাছের মজ্জা’ খাওয়ার পরামর্শ আছে, যা একই স্বাদ ও টেক্সচার দেবে অপরাধবোধ ছাড়াই।



