ভাবুন তো, দাদার ফেলে যাওয়া কাঠের বাক্স থেকে রং-তুলি নিয়ে খেলা করা এক ছোট্ট ছেলে, কিংবা মাসে মাত্র ৮০ টাকা বেতনে বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করা এক সাধারণ কর্মী— একদিন তিনিই কি না নিজের জাদুকরী নির্মাণ দিয়ে জয় করে নিলেন পুরো বিশ্ব! হ্যাঁ, বলছিলাম অস্কারজয়ী কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের কথা। আজ ২৩ এপ্রিল, এই মহান শিল্পীর প্রয়াণ দিবস ।
১৯২১ সালের ২ মে প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া এই শিশুটির ডাকনাম ছিল ‘মানিক’ । চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করার সময় ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের ছোটদের সংস্করণের প্রচ্ছদ আঁকতে গিয়েই তাঁর মাথায় সিনেমা বানানোর ভাবনা আসে ! এরপর ফরাসি পরিচালক জ্যঁ রেনোয়ার সাথে কাজ করে এবং বিশ্বখ্যাত ছবি ‘দ্য বাই সাইকেল থিফ’ দেখে তিনি পুরোপুরি চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন ।
১৯৫৫ সালে তাঁর প্রথম নির্মিত সিনেমা ‘পথের পাঁচালী’ কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্ট’ পুরস্কারসহ মোট ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দেয় । এরপর ‘অপু ট্রিলজি’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর মতো মোট ২৭টি দারুণ সিনেমা তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন । শুধু বাংলা নয়, হিন্দি ও উর্দু ভাষাতেও তিনি বানিয়েছেন তাঁর সবচেয়ে তারকাসমৃদ্ধ ও ব্যয়বহুল সিনেমা ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ ।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, তিনি কেবল একজন পরিচালকই ছিলেন না! একাই তিনি সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা, সংগীত পরিচালনা, সম্পাদনা এবং পোস্টার ডিজাইন করতেন । পাশাপাশি তিনি ছিলেন দারুণ একজন কল্পকাহিনি লেখক ও চিত্রকর ।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মৃত্যুর কিছুদিন আগে ১৯৯২ সালে তিনি বিশেষ ‘অস্কার’ সম্মাননায় ভূষিত হন । এছাড়া তিনি ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ভারতরত্ন’, ফ্রান্সের ‘লেজিওঁ দনর’ এবং ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারও লাভ করেন । ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এই কিংবদন্তি পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও, তাঁর জাদুকরী সৃষ্টিগুলোর মাধ্যমে তিনি আজও অমর হয়ে আছেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে ।



