ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার (১১ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামালি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে।
ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামালি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ এবং এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা বাস্তবসম্মত নয়।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। সেই হামলায় খামেনি নিহত হন এবং এরপর থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। ডোনিয়ামালি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে ইরানের ওপর পরপর দুইটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে বলেছেন— চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও ইরান চাইলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে ইরান দলকে স্বাগত জানানো হবে। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। আসরের গ্রুপপর্বে ইরানের খেলতে কথা ছিল নিউজিল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল, বেলজিয়াম জাতীয় ফুটবল দল ও মিশর জাতীয় ফুটবল দল-এর বিপক্ষে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, কোনো দল প্রথম ম্যাচের ৩০ দিনের মধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ফিফার প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার বা অন্য দল দিয়ে প্রতিস্থাপনের মতো শাস্তিও দেওয়া হতে পারে।



