ডিম একটি সহজলভ্য, সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর খাবার, যা অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখেন। বিশেষ করে প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে ডিমের গুরুত্ব অনেক বেশি। একটি মাঝারি আকারের ডিমে গড়ে প্রায় ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন ও ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। এতে ভিটামিন B12, D ও A, কোলিন, লুটিন, জিয়্যাক্সানথিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (বিশেষত DHA) রয়েছে, যা চোখ, মস্তিষ্ক ও হৃদয়ের সুস্থতায় সহায়তা করে।
তবে প্রশ্ন উঠতে পারে—একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য দিনে কয়টি ডিম খাওয়া নিরাপদ? এ বিষয়ে ভারতের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ প্রকাশ কদম জানিয়েছেন, দিনে ১ থেকে ৩টি ডিম খাওয়া একেবারেই নিরাপদ। এর মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রোটিনের বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। তবে যাদের কোলেস্টেরল বা হৃদরোগজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই ডিম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত ডিম খাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি
১. কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি: একটি ডিমে গড়ে ১৮৬ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। দিনে ৩টি ডিম খেলে হৃৎপিণ্ডে সমস্যা বা ধমনিতে ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
২. কিডনির ওপর চাপ: বেশি প্রোটিন গ্রহণ করলে কিডনির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি হতে পারে, বিশেষত পর্যাপ্ত পানি না পান করলে।
৩. বদহজম ও গ্যাস: অনেকেরই ডিম খাওয়ার পর পেটে গ্যাস, ফাঁপা ভাব বা ঢেকুরের সমস্যা হয়, তাই তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।
ডিম খাওয়ার উপযুক্ত পদ্ধতি
সর্বোত্তম উপায় হলো সেদ্ধ ডিম খাওয়া, যা কম ক্যালোরি ও কম কোলেস্টেরলের উৎস। চাইলে অল্প তেলে পোচ বা স্ক্র্যাম্বলড করা যেতে পারে। তবে বেশি তেলে ভাজা ডিম এড়িয়ে চলাই ভালো। সকালে নাশতায় একটি সেদ্ধ ডিম খাওয়া সবচেয়ে উপকারী।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে ১-২টি ডিম খেতে পারেন। যাঁরা শরীরচর্চা করেন বা পেশি গঠনের চেষ্টা করছেন, তাঁরা দিনে ৩টি পর্যন্ত ডিম খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা বা হৃদরোগ থাকলে ডিম খাওয়ার বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডিমের বিকল্প উৎস
যারা ডিম খান না বা ডিমের পাশাপাশি প্রোটিনের বিকল্প খুঁজছেন, তাঁদের জন্য টুনা মাছ, মুরগির মাংস, ডাল-ছোলা, দুধ-দই, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ হতে পারে কার্যকর বিকল্প।
ডিম স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের একটি দারুণ উৎস। তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় রেখে এবং নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে ডিম খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।



