সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের জন্য সংবেদনশীল হলেও বিভিন্ন বাস্তবতা ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতে বাংলাদেশের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে গেছেন। বিশেষ করে হাতে লেখা পাসপোর্টের সময়কালে দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে অনেকেই এসব কাগজপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। বর্তমানে যেহেতু তারা বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী হিসেবে সেখানে অবস্থান করছেন, তাই সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব পাসপোর্ট নবায়নের জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছিলাম যেন এই সিদ্ধান্ত নিতে না হয়। কিন্তু দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও কূটনৈতিক বাস্তবতার কারণে শেষ পর্যন্ত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।”
তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, পাসপোর্ট দেওয়ার অর্থ কোনোভাবেই নাগরিকত্ব দেওয়া নয়। তিনি বলেন, “পাসপোর্ট মানেই কেউ বাংলাদেশের নাগরিক—এটা নয়। পৃথিবীর বহু দেশে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে অন্য দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট দেওয়ার নজির আছে।” অর্থাৎ, এটি একটি প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা, নাগরিকত্বের প্রশ্ন নয়।
এ সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পর্কেও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার। প্রতিবেদনে একটি কথিত অডিও ফাঁসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কর আরোপের কথা ভাবতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ, ভবিষ্যতে কে ক্ষমতায় আসবে বা কী সিদ্ধান্ত নেবে—তা আগে থেকে অনুমান করা অর্থহীন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফলাফলের পর যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন, তারাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।”
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে দেশ-বিদেশে নানা আলোচনা শুরু হলেও সরকার এটিকে কূটনৈতিক ও বাস্তব প্রয়োজনের অংশ হিসেবেই দেখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।



