চট্টগ্রামের আবহে শেষ ওভারের উত্তেজনাই যেন এনে দিল নতুন প্রাণ। ম্যাচজুড়ে দোলাচলে থাকা লড়াই শেষ পর্যন্ত থিতু হলো বাংলাদেশের স্বস্তির জয়ে। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৩ রান, তবু চাপ ভর করেছিল মাঠে। সেই চাপ কাটিয়ে মেহেদী হাসান শান্তর স্কোয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিই নিশ্চিত করল ৪ উইকেটের জয়, আর সিরিজকে নিয়ে গেল সমতার জায়গায়—তৃতীয় টি–টোয়েন্টি এখন কার্যত ফাইনাল।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ছিল আগ্রাসী। তানজিদ দ্রুত রানআউট হলেও লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমন দলকে এনে দেন দারুণ গতি। পাওয়ার প্লেতে আসে ৬৬ রান; পারভেজ ২৮ বলে ৪৩ এবং লিটন ৩৭ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন। লিটন–সাইফ হাসান বিদায় নিলে ম্যাচে চাপ ফেরে। এরপর নুরুল হাসান ও তাওহীদ হৃদয়ের আউট, বিশেষ করে হৃদয়ের রানআউট, ম্যাচটিকে আবারও জটিল করে তোলে—১০ বলে দরকার ছিল ১৪ রান।
সেই সময়ই দৃঢ়তায় এগিয়ে আসেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মার্ক অ্যাডাইরের ওভারের শেষ তিন বলে চার–ছয়–চার মেরে তিনি একাই তুলে নেন ১০ রান, যা ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেয়। ফলে শেষ ওভারে লাগত মাত্র ৩ রান, যা মেহেদীর ব্যাটে সহজেই আসে।
এর আগে ব্যাট হাতে আয়ারল্যান্ড শুরু করেছিল ঝড়ো। পাওয়ার প্লেতে তারা তোলে ৭৫ রান। কিন্তু এরপরই মেহেদী হাসানের নিয়ন্ত্রিত অফস্পিন ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়—পরপর টেক্টর ভাইদের আউট করে তিনি থামান আইরিশদের গতি। তানজিম হাসান শাকিবও দারুণ স্পেল করেন—৩ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। লোরকান টাকার ৩২ বলে ৪১ রান করলেও শেষদিকে বাংলাদেশের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং আয়ারল্যান্ডকে ১৭০ রানের বেশি যেতে দেয়নি।
৪ উইকেটের এই রোমাঞ্চকর জয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ১–১ সমতায় ফিরেছে। চট্টগ্রামের মাঠে এটি শুধু একটি টি–টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল না—ছিল চাপ সামলে ওঠা, দায়িত্ববোধ, প্রত্যাবর্তন এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের মিলিত প্রতিচ্ছবি। এই আত্মবিশ্বাসই হতে পারে পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।



