৪০ বছর বয়স পেরোনোর পর পুরুষদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা উঁকি দিতে শুরু করে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাবের ফলে অসংক্রামক রোগ যেমন—ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি এ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স চল্লিশের কোঠায় পৌঁছালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেবল জরুরিই নয়, বরং দীর্ঘায়ু নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান শর্ত।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং রক্তে চর্বির আধিক্য বা অস্বাভাবিক লিপিড প্রোফাইলের সমস্যায় নারীদের তুলনায় পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পেটের অতিরিক্ত চর্বি কেবল রক্তে শর্করার মাত্রাই বাড়ায় না, বরং টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিয়ে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাসের কারণে করোনারি হৃদ্রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশ্বজুড়ে পুরুষদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার, বিশেষ করে ফুসফুস ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে আগেভাগে স্ক্রিনিং করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক জটিল রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি বছরে অন্তত একবার ফুল বডি চেকআপ করানো উচিত। নিজের এবং পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক সংকোচ কাটিয়ে খোলাখুলি আলোচনা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণই হতে পারে একটি সুন্দর ও নীরোগ জীবনের চাবিকাঠি।



