কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন বুলিং প্রতিরোধে কঠোর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল অনুমোদিত হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি পাস হওয়া এই বিলকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষায়, শিশুদের শৈশবকে বাণিজ্যিক অ্যালগরিদমের দখল থেকে রক্ষা করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট চান, আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অর্থাৎ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনটি কার্যকর হোক। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটির পক্ষে ১১৬টি এবং বিপক্ষে ২৩টি ভোট পড়ে। পরবর্তী ধাপে এটি সিনেটে পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদনের পর আবারও নিম্নকক্ষে চূড়ান্ত ভোটের মাধ্যমে আইন হিসেবে কার্যকর করা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।
এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে শিশু-কিশোরদের ক্রমবর্ধমান স্ক্রিন আসক্তি, সাইবার বুলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিলটি পাসের পর ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। তাদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের হাতে তুলে দিতে পারি না।’ তিনি আরও জানান, সরকার এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চায় যারা প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধে বিশ্বাসী হবে—উদ্বিগ্ন ও বিষণ্ণ নয়।
প্রস্তাবিত আইনে শুধু জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ নয়, বরং যেকোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সুবিধার ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুসারে কঠোর ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল রেখেই ফ্রান্স এই পদক্ষেপ নিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করেছে। যদিও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিপিএন বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে বয়স যাচাই এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে, তবুও শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার কথা বিবেচনায় নিয়ে একে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছে ফ্রান্স সরকার।
সূত্র: ঢাকা মেইল

