ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিন এবং যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওয়াশিংটনে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হচ্ছে। ১৪ জুন অনুষ্ঠেয় এই কুচকাওয়াজে অংশ নিতে পারে ৬,৬০০-এর বেশি সেনা সদস্য, ১৫০টিরও বেশি সামরিক যান, ৫০টি হেলিকপ্টার, ৭টি সামরিক ব্যান্ড এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ। এই আয়োজনের পরিকল্পনার খসড়া নথি সংবাদ সংস্থা এপির হাতে এসেছে।
এই দিনে ট্রাম্প ৮০ বছরে পা দেবেন, আর যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনী উদযাপন করবে তাদের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ফক্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, কুচকাওয়াজটি শুধুমাত্র বর্তমান সেনা সদস্যদের অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এতে থাকবে মার্কিন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সব যুদ্ধের প্রতীকী উপস্থাপনা—যেমন স্বাধীনতা যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, দুই বিশ্বযুদ্ধ, ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ। প্রদর্শন করা হবে ঐতিহাসিক সামরিক সরঞ্জামও।
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ নীতির পরিচালক ভিন্স হ্যালি জানান, “প্রেসিডেন্ট একটি ঐতিহাসিক উদ্যাপনের পরিকল্পনা করছেন, যা আমাদের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী প্রজন্ম ও সেনাদের প্রতি সম্মান নিবেদন করবে।”
তবে এখনো পর্যন্ত এই পরিকল্পনার নথিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ বা অনুমোদন করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এ আয়োজন নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বিশাল আয়োজনের সম্ভাব্য খরচ ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। সামরিক যান ও সরঞ্জাম দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে ওয়াশিংটনে আনতে হবে, পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। ভারী ট্যাঙ্ক ও সামরিক যান ব্যবহারের কারণে ওয়াশিংটনের সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬,৩০০ সেনা সদস্য, ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার, ঐতিহাসিক সামরিক যন্ত্রপাতি, সেনাবাহিনীর পুরনো সদস্য এবং সামরিক কলেজের ছাত্ররা কুচকাওয়াজে অংশ নেবেন। থাকবে সাতটি ব্যান্ড এবং প্যারাসুট দলের বিশেষ প্রদর্শনী।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৭ সালে ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ওয়াশিংটনে বড় একটি সামরিক কুচকাওয়াজ করতে চেয়েছিলেন। তবে আনুমানিক ৯২ মিলিয়ন ডলারের ব্যয় এবং লজিস্টিক জটিলতার কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প লেখেন, “আমরা আবার আমাদের বিজয় উদযাপন শুরু করব!” তিনি আরও জানান, ৮ মে-কে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিজয় দিবস’ এবং ১১ নভেম্বর-কে ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বিজয় দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করতে চান।



