বলিউডের ‘গ্রিক গড’ হিসেবে খ্যাত হৃত্বিক রোশন মাত্র একটি সিনেমার সাফল্যেই রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান। ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ ছিল তার অভিনয়জীবনের প্রথম ছবি, আর এই ছবিই বলিউডে নিয়ে আসে হৃত্বিক-ঝড়। ভক্তদের অগাধ ভালোবাসা ও উন্মাদনার কারণে মুক্তির পরপরই তিনি প্রায় ৩০ হাজার বিয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন বলে জানান সম্প্রতি এক জনপ্রিয় টক শোতে।
সেই সময়কার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে হৃত্বিক বলেন—তার বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে প্রতিদিন ভক্তদের লম্বা লাইন থাকত। ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে যেত, তাই অনেক সময় তাকে পেছনের দরজা দিয়ে বের হতে হতো, বিশেষ করে তখনকার প্রেমিকা সুজান খানের সঙ্গে দেখা করার জন্য। ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’-এর ব্যাপক সফলতা তাকে শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিপুল পরিচিতি এনে দেয়। সুদর্শন চেহারা, নাচের পারদর্শিতা ও অভিনয় দক্ষতার কারণে তিনি দ্রুতই ভারতীয় তরুণীদের কাছে ‘গ্রিক গড’ উপাধি পান।
ব্যক্তিগত জীবনে হৃত্বিক একই বছরে—২০০০ সালেই—সঞ্জয় খানের কন্যা সুজান খানকে বিয়ে করেন। ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে বিয়ে করা সত্ত্বেও তার জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং তিনি আরো দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছান। পরে দাম্পত্যে বিচ্ছেদ হলেও হৃত্বিক ও সুজান এখনও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং তাদের দুই সন্তান—হ্রেহান ও হৃদান—কে যৌথভাবে লালন-পালন করছেন।
সিনেমায় প্রথম সাফল্যের পর হৃত্বিক একের পর এক অভিনয় করেছেন সুপারহিট ছবি—কভি খুশি কভি গম, ধুম–২, জোধা আকবর, জিদ্দি, ওয়ার, কৃশ সিরিজসহ আরো বহুল প্রশংসিত কাজ। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি কঠোর ফিটনেস রুটিন, চরিত্রভেদে শারীরিক পরিবর্তন এবং নাচের অসাধারণ দক্ষতার জন্যও বলিউডে আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছেন।
রুপালি পর্দায় সফলতা, বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান-পতন—সব মিলিয়ে হৃত্বিক রোশনের গল্প আজও অসংখ্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।



