আজ প্রখ্যাত অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি-র ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান, রেখে যান অভিনয়ের এক অনন্য ভুবন। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মঞ্চ—অভিনয়ের প্রতিটি মাধ্যমে নিজের শক্তিশালী উপস্থিতি এবং স্বতন্ত্র অভিনয়ভঙ্গির মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দর্শকনন্দিত এক কিংবদন্তি। তাকে অনেকেই বলতেন ‘অভিনয় কারিগর’, কারণ চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করে বাস্তবতার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা ছিল তার।
হুমায়ুন ফরীদির জন্ম একটি সংস্কৃতিমনা পরিবারে। তার বাবা এটিএম নূরুল ইসলাম এবং মা বেগম ফরিদা ইসলাম। ছাত্রজীবনে ইউনাইটেড ইসলামিয়া গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক শেষ করে তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত নাট্য উৎসবে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই নাট্যাঙ্গনে তার পরিচিতি তৈরি হয় এবং ছাত্রাবস্থাতেই তিনি ঢাকা থিয়েটার-এর সদস্যপদ লাভ করেন।
নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে প্রবেশের পর তিনি একের পর এক শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে বাংলা সিনেমায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। ‘সন্ত্রাস’, ‘দহন’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘ব্যাচেলর’, ‘মেহেরজান’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে তার অভিনয় আজও দর্শকের মনে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ২০০৪ সালে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। মৃত্যুর ছয় বছর পর ২০১৮ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়, যা তার শিল্পীজীবনের অসামান্য অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
অভিনয়ের প্রতিটি অঙ্গনে সমান দক্ষতা, সংলাপ বলার নিজস্ব ঢং এবং চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতার জন্য হুমায়ুন ফরীদি বাংলাদেশের নাট্য ও চলচ্চিত্র জগতে এক অবিসংবাদিত নাম হয়ে আছেন। তার চলে যাওয়া অনেকেই আজও মেনে নিতে পারেন না। মৃত্যুবার্ষিকীতে সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই কিংবদন্তি শিল্পীকে।



