অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার কারণে বর্তমানে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ফ্যাট ও কোলেস্টেরল ধমনিতে বাধা সৃষ্টি করে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত করে, যা হৃদরোগের বড় কারণ। বিশেষভাবে বেশি লবণ, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও কোলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাবার হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিচে এমন ৮টি খাদ্য তুলে ধরা হলো, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রথমত, কোমল পানীয়তে থাকে বিপুল পরিমাণ চিনি—মাত্র ১২ আউন্স সোডায় প্রায় ১০ চা চামচ চিনি। নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং কৃত্রিম চিনির সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্কও রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সাদা ব্রেড উচ্চ কার্বোহাইড্রেট ও গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হওয়ায় রক্তে চিনি দ্রুত বাড়িয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। একইভাবে অতিরিক্ত লবণ রক্তনালির ক্ষতি করে, তাই প্রতিদিন ৫ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
প্রক্রিয়াজাত মাংস—যেমন সসেজ বা হট ডগ—স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণসমৃদ্ধ, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪২% পর্যন্ত বাড়াতে পারে। ফাস্টফুডেও থাকে প্রচুর চিনি, কোলেস্টেরল ও ক্যালোরি, যা হৃদযন্ত্রের বড় শত্রু। পিৎজা একই কারণে ঝুঁকিপূর্ণ—এতে থাকে লবণ, ফ্যাট ও প্রক্রিয়াজাত মাংস।
আইসক্রিমে চিনি, ফ্যাট ও কোলেস্টেরল বেশি থাকায় এটি ক্যালোরি বাড়িয়ে হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি করে। এছাড়া কলিজা, মগজ বা হাড়ের মজ্জায় থাকে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল, যা হৃদরোগীদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মাছের ডিম ও মাথাতেও ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল কোলেস্টেরল বেশি থাকে, যা রক্তের লিপিড প্রোফাইল খারাপ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার, ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম জীবনযাত্রার মাধ্যমে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা সম্ভব। সঠিক খাবার নির্বাচন করলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।


