মিষ্টি খাওয়া যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা আমরা সবাই জানি। তবু অনেকেরই চকলেট, কেক, পেস্ট্রি কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবার দেখলেই খেতে ইচ্ছা করে। এমনকি পেট ভরা থাকার পরও এই আকাঙ্ক্ষা দেখা দেয়। গবেষকেরা এ বিষয়ে বেশ কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
🧠 মস্তিষ্কের ভূমিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস নামের অংশ মিষ্টির প্রতি আকর্ষণের জন্য দায়ী। হিপোক্যাম্পাস মিষ্টি খাওয়ার স্মৃতি ধরে রাখে, ফলে সেই অভিজ্ঞতা মনে পড়লে খাওয়ার ইচ্ছা জাগে। মিষ্টি বা চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা আনন্দ ও তৃপ্তি দেয়। পাশাপাশি সেরোটোনিনের ভারসাম্য নষ্ট হলে দুশ্চিন্তা বা বিষণ্নতা বেড়ে যায়, তখনও মানুষ মিষ্টির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
🧬 পূর্বপুরুষদের অভ্যাস
গবেষকেরা বলছেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনধারা এখানেও ভূমিকা রেখেছে। খাদ্যসংকটের সময় তারা উচ্চ-ক্যালরিযুক্ত খাবার (যেমন ফল বা মধু) পেলে বেশি করে খেতেন। সেই প্রবণতা জেনেটিকভাবে এখনো বহন করছে মানুষ। তাই আজও শরীর ও মস্তিষ্ক অতিরিক্ত ‘সুগার বুস্ট’ চাইতে পারে।
🍭 রক্তে শর্করার ওঠানামা
কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায় এবং ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। পরে শর্করা কমে গেলে শরীর আবারও চিনি চায়। একই সঙ্গে ঘ্রেলিন (ক্ষুধা উদ্দীপক) ও লেপ্টিন (তৃপ্তির সংকেত) হরমোনের ওঠানামা বিভ্রান্তি তৈরি করে। ফলে পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা দেখা দেয়।
⚠️ ক্ষতিকর প্রভাব
যদিও হঠাৎ মিষ্টি খেতে মন চাওয়া স্বাভাবিক, তবে এর প্রভাব ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত বেশি মিষ্টি খেলে—
১. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে
২. স্থূলতা ও হৃদ্রোগের সম্ভাবনা থাকে
৩. মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটে
সমাধান
চিকিৎসকেরা মিষ্টি খাওয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন—
খেতে হলে অল্প পরিমাণে খান
প্রক্রিয়াজাত মিষ্টির বদলে ফল খান
বিকল্প হিসেবে এক কাপ গরম চা খেতে পারেন
মাইন্ডফুল ইটিং অনুশীলন করুন, ক্ষুধা ও অভ্যাসের পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করুন
মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তবে নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সচেতনভাবে খাওয়াই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।



