অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। আইসিসির সদ্য প্রকাশিত টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উজ্জ্বল উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
দুই ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর আবারও সেরা দশে ফিরেছেন ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি এবার ১৭ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন নবম স্থানে। তার এই প্রত্যাবর্তন দলের বোলিং আক্রমণে নতুন শক্তি যোগ করেছে।
মোস্তাফিজের পাশাপাশি আরও তিন বাংলাদেশি বোলার বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছেন। অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসান ৯ ধাপ এগিয়ে উঠেছেন ১৬তম স্থানে। তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব ৯ ধাপ এগিয়ে এসেছেন ৩৭তম স্থানে। এছাড়া শরীফুল ইসলাম ১৪ ধাপ অগ্রসর হয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ৪৩তম স্থানে।
ব্যাটিংয়েও দারুণ অগ্রগতি এসেছে তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ১৮ ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন ৩৭তম স্থানে। মিডল অর্ডারের উদীয়মান ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ২ ধাপ এগিয়ে এখন অবস্থান করছেন ৩৯ নম্বরে। এই দুই ব্যাটসম্যানই পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজে কার্যকর ব্যাটিং করেছেন।
সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের আলী অনিক। ধারাবাহিক ইনিংস খেলে তিনি ১৭ ধাপ এগিয়ে নিউজিল্যান্ডের ডেভন কনওয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ৫৩তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন। তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যে নির্বাচকদের নজরে এসেছে।
এই র্যাঙ্কিং উন্নতির পেছনে মূল কারণ হলো পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজে বাংলাদেশ দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। দুই ম্যাচেই টাইগাররা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জয় তুলে নিয়েছে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটি ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক এক বার্তা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি র্যাঙ্কিং পয়েন্টই বিশ্বকাপ প্রস্তুতির অংশ। তাই এই অগ্রগতি শুধু সংখ্যার খেলা নয়, বরং দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর একটি বড় সুযোগ। সিরিজের শেষ ম্যাচেও জয় পেলে র্যাঙ্কিংয়ে টাইগারদের আরও বড় লাফ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তারা কতটা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে।



