
কিশোরগঞ্জের চারটেকি গ্রামের মেঠোপথ ধরে প্রতিদিন বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ১৬০ জনেরও বেশি ছাত্রী। এদের কেউ কেউ পাশের গ্রামগুলো থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে পড়াশোনা করতে আসে। একসময় যে দৃশ্য ছিল সমালোচনা ও লোকলজ্জার বিষয়, আজ তা পরিণত হয়েছে আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা এবং আত্মনির্ভরশীলতার এক অনন্য প্রতীকে।
কাদাটে রাস্তা, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সাময়িক ইভটিজিংয়ের মতো নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এই দূরন্ত বালিকারা দমে যায়নি। সাইকেল তাদের জন্য শিক্ষার পথকে সহজ করার পাশাপাশি সমাজের সনাতন চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করতে শিখিয়েছে। তাদের এই আত্মবিশ্বাস ও আত্মরক্ষা কৌশল আরও সুদৃঢ় করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জুডো ও কারাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এই অদম্য কিশোরীদের কাছে বাইসাইকেল কেবল একটি সাধারণ যান বাহন নয়; এটি তাদের শিক্ষা, মুক্তি এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার। সমাজের শিকল ভেঙে এগিয়ে যাওয়া এই তরুণীরা আজ পুরো দেশের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।


