সকালের নাশতা দিনের প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি কেবল পেট ভরানোর বিষয় নয়, বরং সারাদিনের শক্তি, মনোযোগ, মানসিক সতেজতা ও সুস্থতা বজায় রাখার মূল চাবিকাঠি। তবুও অনেকেই ওজন বাড়ার ভয়ে নাশতা বাদ দেন অথবা সময়ের অভাবে স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকেন।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, দিনের শুরুতে পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি মানসিক সতেজতাও বাড়ে। সঠিক নাশতা হজম শক্তি উন্নত করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের নাশতায় সহজলভ্য ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে ডিম, চিয়া সিড, ফল, ওটস, গ্রিন টি, কফি, বেরি জাতীয় ফল ও বাদাম। এসব খাবার শুধু শরীরকে শক্তি জোগায় না, বরং মনকেও সতেজ রাখে এবং সারাদিন সক্রিয় রাখে।
বাদাম: চিনাবাদাম, আখরোট, কাজু বা পেস্তা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। বাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, আঁশ, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। নিয়মিত বাদাম খেলে খারাপ কোলেস্টেরল কমে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস পায়, স্মৃতিশক্তি বাড়ে, হাড় মজবুত হয় এবং দীর্ঘসময় পেট ভরা থাকে।
গ্রিন টি: গ্রিন টিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান রয়েছে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
কফি: কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরকে সতেজ রাখে এবং মনোযোগ বাড়ায়। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানও রয়েছে। তবে চিনি ছাড়া খাওয়াই ভালো। গবেষণা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক দিনে সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন নিতে পারেন। তবে গর্ভাবস্থায় সীমা হওয়া উচিত প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম।
ডিম: সকালের নাশতায় ডিম অন্যতম সেরা খাবার। এতে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমৃদ্ধ থাকে। ডিমের যেকোনো পদ সহজে রান্না করা যায় এবং এটি শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়।
ফল: কলা, আপেল, কমলা, আঙুরসহ মৌসুমি ফলে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, পটাশিয়াম ও আঁশ থাকে। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজম শক্তি উন্নত করে।
চিয়া সিড: চিয়া সিডকে বলা হয় ‘সুপার ফুড’। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি হাড় মজবুত রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর।
বেরি জাতীয় ফল: স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ও অন্যান্য বেরিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদান থাকে। এগুলো ইনসুলিনের ভারসাম্য বজায় রাখে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় এবং হজমে সহায়তা করে।
সব মিলিয়ে, প্রতিদিনের নাশতায় এসব খাবার রাখার অভ্যাস তৈরি করা মানে দিনের শুরুতে বাড়তি শক্তি পাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের সুস্থতা নিশ্চিত করা।



