বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় এবার ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে পৃথিবী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের এল নিনো সুপার পর্যায়ে পৌঁছানোর ঝুঁকি প্রায় ৬৩ শতাংশ।
এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের একটি জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, সুপার এল নিনো হলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০১৫–১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব আবারও ‘সুপার এল নিনো’ অভিজ্ঞতা পেতে পারে।
এল নিনোর প্রভাব সাধারণত অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরা দেখা দেয়, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও হাওয়াইয়ে ঘন ঘন হারিকেন আঘাত হানতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোয় খরা ও তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবারের বর্ষায় বৃষ্টি কম হতে পারে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে দেখা দিতে পারে খরা। আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও খরা দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বেড়ে যেতে পারে বৃষ্টি, ফলে এসব অঞ্চলে বন্যা হতে পারে। তবে ব্রাজিলে গরম তীব্র হতে পারে।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার না কমায় এমন প্রাকৃতিক ঘটনাগুলোর প্রভাব আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ফলে সুপার এল নিনো বিশ্বজুড়ে মানবজীবন, কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।



