শীতের হিমেল আবহাওয়া আমাদের শরীরের রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে দেয়, যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়। এই সময়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি যেমন পালং শাক, ভিটামিন-সি যুক্ত লেবুজাতীয় ফল এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ চর্বিযুক্ত মাছ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এছাড়া ফাইবার সমৃদ্ধ ওটস, লাল চাল এবং বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ ধমনিতে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দিয়ে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। রসুনের মতো ভেষজ উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গাজর বা বিট এই মৌসুমে হৃদযন্ত্রের জন্য দারুণ সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
অন্যদিকে, শীতের আমেজে ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়লেও হৃদরোগীদের জন্য এগুলো এড়িয়ে চলা আবশ্যক। প্যাকেটজাত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত পানীয় এবং ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ ফাস্ট ফুড রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদপিণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। ময়দা দিয়ে তৈরি পরিশোধিত শর্করা যেমন সাদা পাউরুটি বা কেকও হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ ফেলে। তাই রান্নার ক্ষেত্রে ভাজা পদ্ধতির বদলে সেদ্ধ, গ্রিল বা রোস্ট করা খাবার বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
কেবল সঠিক খাবারই নয়, শীতকালীন সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উৎসবের মৌসুমেও খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে পারলে হৃদযন্ত্রকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, সচেতন খাদ্যাভ্যাস এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই এই শীতে আপনার হৃদপিণ্ডের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।



