গলের পঞ্চম দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য অপরাজিত ১২৫ রানের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে টাইগাররা ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কার সামনে ছুড়ে দিয়েছে ২৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য। তবে লক্ষ্য পূরণের জন্য সময় ছিল মাত্র ৩৭ ওভার।
প্রথম ইনিংসেও শান্ত খেলেছিলেন ১৪৮ রানের অসাধারণ ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ১৯৯ বলের এই ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কার ঝলক। দুটি ইনিংসে শতক হাঁকিয়ে শান্ত হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এক বিরল ব্যাটার, যিনি এক ম্যাচেই দুটি শতকের মালিক। অধিনায়ক হিসেবে এ দায়িত্বশীলতা নিঃসন্দেহে তাঁকে টেস্ট ক্রিকেটে এক অনন্য মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৫/৬ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। শান্ত ছাড়াও ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সাদমান ইসলাম (৭৬), মুশফিকুর রহিম (৪৯) এবং মমিনুল হক (১৪)। যদিও রানের গতি ছিল তুলনামূলক ধীর, তবুও টাইগাররা শেষ পর্যন্ত লঙ্কানদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
ম্যাচ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ড্রই সবচেয়ে সম্ভাব্য ফলাফল মনে হচ্ছে। মাত্র ৩৭ ওভারে ২৯৬ রান তাড়া করা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন, বিশেষ করে যখন গলের উইকেট স্পিনারদের সহায়তা করছে।
তবে বাংলাদেশের হাতে রয়েছে যথেষ্ট বোলিং অস্ত্রভাণ্ডার। নাঈম হাসান, তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ যদি শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করতে পারেন, তবে গলে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কাকে হারানোর স্বপ্নটা বাস্তবেও রূপ নিতে পারে। এ জয় কেবল ঐতিহাসিকই হবে না, বরং শান্তর নেতৃত্বেও টেস্টে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে গণ্য হবে।



