ক্যানসার বা কর্কটরোগ হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনজনিত রোগসমূহের একটি সমষ্টি। প্রাণঘাতী এই রোগটির নাম শুনলেই আতঙ্ক তৈরি হয়। এখনো পর্যন্ত ক্যানসারে মৃত্যুহার অনেক বেশি হলেও চিকিৎসা-বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত হলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে।
বেশিরভাগ ক্যানসারই চিকিৎসাযোগ্য, তবে সমস্যাটি হলো— আমরা প্রায়ই ছোটখাটো উপসর্গকে গুরুত্ব দিই না এবং চিকিৎসকের কাছে যাই না। অথচ এগুলোই হতে পারে ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনের কোনো পর্যায়ে ক্যানসারের ইঙ্গিতবাহী উপসর্গে ভুগেছেন, কিন্তু খুব কম মানুষই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, ক্যানসারের সম্ভাব্য ১০টি সাধারণ উপসর্গ রয়েছে যেগুলো অবহেলা করা উচিত নয়—
১. কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া
অগ্ন্যাশয়, পাকস্থলি, খাদ্যনালি বা ফুসফুসের ক্যানসারের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে। বিশেষত পাঁচ কেজি বা তার বেশি কমে গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
২. জ্বর
ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বর প্রায়ই দেখা দেয়। তবে লিউকেমিয়া বা লিম্ফোমার মতো ক্যানসারে প্রাথমিক পর্যায়েও জ্বর হতে পারে।
৩. ক্লান্তি
অতিরিক্ত বিশ্রামের পরও না কমা অস্বাভাবিক ক্লান্তি ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে লিউকেমিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষরণের কারণে এই উপসর্গ দেখা যায়।
৪. ত্বকের পরিবর্তন
ত্বক কালো হয়ে যাওয়া, জন্ডিস, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা অস্বাভাবিক লোম বৃদ্ধি— এগুলো শুধু ত্বকের ক্যানসার নয়, অন্য কিছু ক্যানসারেরও লক্ষণ হতে পারে।
৫. অন্ত্র বা মূত্রাশয়ের কার্যক্রমে পরিবর্তন
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা মলের আকারে পরিবর্তন মলাশয়ের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে। প্রস্রাবে রক্ত, ব্যথা বা প্রস্রাবের অভ্যাসে হঠাৎ পরিবর্তন মূত্রাশয় বা প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
৬. যে ক্ষত ভালো হয় না
শরীরের যেকোনো ক্ষত চার সপ্তাহ পরও সেরে না উঠলে সতর্ক হতে হবে। মুখে এমন ক্ষত হলে তা মুখগহ্বরের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
৭. শরীরের যেকোনো স্থান শক্ত হয়ে যাওয়া
স্তন, অণ্ডকোষ বা শরীরের নরম টিস্যুতে অস্বাভাবিক গাঁট বা শক্তভাব দেখা দিলে সেটি ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে।
৮. রক্তপাত
কাশির সঙ্গে রক্ত এলে ফুসফুসের ক্যানসার, মলের সঙ্গে রক্ত এলে মলাশয় বা মলদ্বারের ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
৯. টানা কাশি বা কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন হলে তা স্বরযন্ত্র বা থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
১০. গিলতে অসুবিধা
ক্রমাগত বদহজম বা খাবার গিলতে সমস্যা হলে তা ইসোফ্যাগাস, পাকস্থলি বা গলার ক্যানসারের সতর্ক সংকেত হতে পারে।
➡️ তবে মনে রাখা জরুরি, এই উপসর্গগুলো সবসময় ক্যানসারের জন্যই নাও হতে পারে। তবুও যদি এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় বা না কমে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



