বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই অংশগ্রহণের নজির রয়েছে সেলেসাওদের। বিশ্বকাপ শিরোপাও তারা জিতেছে সবচেয়ে বেশি—পাঁচবার। ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে। কিন্তু সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ দুই যুগ। ‘হেক্সা মিশন’ আর সফল করতে পারেনি শৈল্পিক ফুটবলের দেশটি। এবার কী পারবে সেই আক্ষেপ ঘুচাতে? তার উত্তর দিতে পারে কেবল সময়।
সেই উত্তর মেলাতেই আজ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় রিও ডি জেনেইরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে ২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের তালিকা প্রকাশের কথা। নতুন মুখের ঝলক নয়, বরং অভিজ্ঞতার কাঁধে ভর করেই এ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রবীণতম বিশ্বকাপ দল পেয়ে উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর ব্রাজিলে প্রায়শই ‘পুনর্গঠন’ শব্দটি জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। ২০২২ সালের হতাশার পরও অনেকে নতুন দল গঠনের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সিবিএফ ফিফার কাছে যে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা পাঠিয়েছে, সেখানে ২০ জন খেলোয়াড় আছেন যারা অন্তত একটি বিশ্বকাপ খেলেছেন—এবং তারা সবাই ছিলেন কাতার বিশ্বকাপে। অর্থাৎ, আনচেলত্তির ঘোষিত দলে মাত্র ছয়জন খেলোয়াড়ই নতুন সংযোজন হতে পারেন, যারা ২০২২ সালে জাতীয় দলের ভাবনায় ছিলেন না।
এতে স্পষ্ট হয়, কাতার বিশ্বকাপে বিদায়ের পরও সেই দলের বড় অংশ এখনো শীর্ষ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ ২০ জনের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে এবার প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে—ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, কাসেমিরো ও মার্কিনিওসের মতো তারকারা। এখনো আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন নেইমার ও পেদ্রো। সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দেখা যেতে পারে আক্রমণভাগে, সংখ্যাটা পাঁচ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অনুপাতে সবচেয়ে অভিজ্ঞ হতে পারে মিডফিল্ড।
ইতিহাস বলছে, এ শতাব্দীতে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ-অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ছিল ১০ জন (২০০৬ ও ২০২২ সালে)। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ-অভিষিক্ত খেলোয়াড়ের সংখ্যা হতে পারে এ শতাব্দীর সর্বনিম্ন (বর্তমানে রেকর্ড ২০০৬ সালের ১৩ জন)।
উল্লেখ্য, কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গড় বয়স ছিল ২৭.৮৮ বছর—৩২ দলের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। তবে অভিজ্ঞতা সবসময় বাধা নয়। আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে মাত্র সাতজন অভিষিক্ত খেলোয়াড় নিয়েই জিতেছিল শিরোপা। ফ্রান্স ২০১৮ সালে জেতে ছয়জন অভিজ্ঞ নিয়ে। আর ২০১৪ সালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জেতা জার্মানির দলে ছিল ১১ জন বিশ্বকাপ-ফেরত ফুটবলার।



