সকালের নাশতায় সেদ্ধ, পোচ বা ভাজি হিসেবে ডিম অনেকেই খেয়ে থাকেন। ভাতের সঙ্গে তরকারি হিসেবেও ডিমের ব্যবহার জনপ্রিয়। এমনকি সন্ধ্যার নাশতাতেও নানা স্বাদের বৈচিত্র্য আনার জন্য ডিমের ব্যবহার দেখা যায়। প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিম একটি চমৎকার খাদ্য। একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ৭২ ক্যালরি থাকে। এ ছাড়া এতে ভিটামিন ডি, বি১২, রিবোফ্লাবিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি দেহে শক্তি জোগায় এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
বাজারে সাধারণত দুটি রঙের ডিম পাওয়া যায়—লাল এবং সাদা। ডিমের এই রঙের পার্থক্য মুরগির জাত ও জিনতত্ত্বের উপর নির্ভর করে। সাধারণত সাদা পালকের মুরগি সাদা ডিম এবং গাঢ় রঙের পালকের মুরগি লাল ডিম পাড়ে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও দেখা যায়, যেখানে সাদা মুরগিও লাল ডিম দিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, সব ডিমের খোলস শুরুতে সাদা থাকে এবং ডিম তৈরির শেষ পর্যায়ে মুরগির শরীরে থাকা রঞ্জক পদার্থের মাধ্যমে রং যুক্ত হয়। সাদা ডিমের ক্ষেত্রে এই রঞ্জক প্রক্রিয়া ঘটে না।
তবে প্রশ্ন হলো—ডিমের রঙ কি পুষ্টিগুণের ওপর প্রভাব ফেলে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের রঙের সঙ্গে পুষ্টিগুণের তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও নিউইয়র্কের একদল গবেষক জানিয়েছেন, লাল ডিমে সামান্য বেশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকতে পারে, কিন্তু এই পার্থক্য এতই ক্ষীণ যে তা মানবদেহে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে না।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একটি ৫০ গ্রামের ডিমে প্রায় ৭২ ক্যালরি এবং ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে—যা সাদা ও লাল উভয় ধরনের ডিমে প্রায় সমান। তবে বর্তমানে বাজারে ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ, অর্গানিক, নন-জিএমও খাদ্য খাওয়া মুরগির এবং মুক্ত পরিবেশে পালিত দেশি মুরগির ডিমের চাহিদা বেশি। কারণ, এসব ডিমে পুষ্টিগুণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
ডিমের রঙের চেয়ে মুরগির খাদ্যাভ্যাস ও পালনের পরিবেশ পুষ্টিগুণের দিক থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক খাবার খাওয়া মুরগির ডিমে সাধারণত ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, খনিজ ও ফ্যাট বেশি থাকে। অন্যদিকে, খামারে নিয়ন্ত্রিত খাদ্য খাওয়ানো মুরগির ডিমে ভিটামিন ও খনিজ কিছুটা কম হলেও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং ফ্যাট কম থাকে। ফলে ভালো মানের ফিড দেওয়া খামার-মুরগির ডিম অনেক সময় গৃহপালিত দেশি মুরগির ডিমের চেয়েও পুষ্টিগুণে এগিয়ে থাকতে পারে।


