বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশে শুরু হয়েছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। চাঁদ দেখার ঘোষণার পর আজ এশার নামাজের পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তারাবির নামাজ আদায় করবেন এবং ভোরে সেহরি খেয়ে প্রথম রোজা পালন করবেন। Islamic Foundation Bangladesh দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদ দেখার তথ্য নিশ্চিত করলে আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। মসজিদগুলোতে ইতোমধ্যেই ইবাদত-বন্দেগির এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রমজান মাস রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। এই মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের বিশেষ সময়। পবিত্র কোরআনে রোজার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, রোজা মানুষের মধ্যে আল্লাহভীতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ গড়ে তোলে। ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো রোজা রাখা—শরিয়তের ভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম।
রমজানের শেষ দশদিনের গুরুত্ব আরও বেশি। এ সময় ইতেকাফ করা সুন্নত এবং এই দশকের মধ্যেই রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অনেকের মতে ২৭তম রাতটি লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তবে হাদিসে শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলো—২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯—এই রাতের সন্ধান করতে বলা হয়েছে। তাই মুসলমানরা এ রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতে মনোনিবেশ করেন।
রমজান শুধু রোজা রাখার মাস নয়; এটি সহমর্মিতা, আত্মসংযম, দান-সদকা এবং মানবিকতার চর্চার মাস—যেখানে একজন মানুষ নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।



