যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ শীতকালীন তুষারঝড় ও তীব্র শীত দেশটির জনজীবনকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। টানা তুষারপাত, বরফশীতল বৃষ্টি ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার কারণে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ, কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের অর্ধেকের বেশি এলাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া দপ্তরের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইলিনয়েস, ওহিও, ইন্ডিয়ানা, কানসাস, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, পেনসিলভেনিয়া, মিসৌরি, ওকলাহোমা, টেক্সাস, টেনেসিসহ অন্তত ১৫টি অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পুরু তুষারের চাদরে ঢেকে গেছে। একই সঙ্গে ক্যারোলাইনা অঞ্চল ও মধ্য আটলান্টিক রাজ্যগুলোতে তুষারপাতের পাশাপাশি শুরু হয়েছে বরফশীতল বৃষ্টি, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বিপজ্জনক এই আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া দপ্তর ব্যাপক শীতকালীন সতর্কতা জারি করেছে। এই সতর্কতার আওতায় পড়েছেন প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। কর্তৃপক্ষ জনগণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জরুরি সেবা কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে বিঘ্ন।
শীতকালীন ঝড়ের প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রোববার দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ১৭ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। করোনা মহামারির পর এই প্রথম একদিনে এত বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটলো যুক্তরাষ্ট্রে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

