যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় অবস্থিত বিশ্বখ্যাত প্রাকৃতিক বিস্ময় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন-এ আবারও ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। এর ফলে নর্থ রিম অঞ্চলে অবস্থিত ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন লজ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ৯৬ বছরের পুরোনো এই মৌসুমি হোটেলটি ১৯২৮ সাল থেকে পর্যটকদের সেবা দিয়ে আসছিল। এটি ১৯৩২ সালে রান্নাঘরের এক অগ্নিকাণ্ডে প্রথমবার ধ্বংস হয় এবং পরে ১৯৩৭ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (NPS) জানিয়েছে, শুধুমাত্র লজই নয়, আশপাশের আরও ৫০ থেকে ৮০টি অবকাঠামো দাবানলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নর্থ রিম পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং শত শত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই দাবানলের মূল উৎস দুটি: ড্রাগন ব্রাভো ফায়ার এবং হোয়াইট সেজ ফায়ার। ৪ জুলাই বজ্রপাত থেকে সৃষ্ট ড্রাগন ব্রাভো ফায়ার ইতিমধ্যে ৫০০ একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার গতি ঘণ্টায় ৩২ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ছিল ৬৪ কিলোমিটার পর্যন্ত। এটি সরাসরি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন লজ ও তার আশপাশের কাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেয়।
অপরদিকে, ৯ জুলাই শুরু হওয়া হোয়াইট সেজ ফায়ার ১৩ জুলাই পর্যন্ত ৪০,১৮৬ একর এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৫০০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার কাজ করছেন এবং আকাশপথে রাসায়নিক স্প্রে করা হচ্ছে। তবে উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক বাতাস ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে চরম বাধার মুখে পড়ছে ফায়ার সার্ভিস।
গ্র্যান্ড ক্যানিয়নকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক বিস্ময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি কোলোরাডো নদীর দ্বারা গঠিত একটি বিশাল গিরিখাত, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৪৬ কিমি, প্রস্থ ২৯ কিমি এবং গভীরতা প্রায় ১.৬ কিমি। এখানে পৃথিবীর প্রায় ২ বিলিয়ন বছরের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস দৃশ্যমান। এটি ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট, এবং প্রতিবছর কোটিরও বেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণ করেন।
এই দাবানল শুধু প্রাকৃতিক ঐতিহ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও পর্যটন শিল্পের জন্যও একটি বড় ক্ষতির বার্তা নিয়ে এসেছে।



