রাত গভীর হলে ঢাকার ব্যস্ত শহরটা ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে। দিনের কোলাহল থেমে গিয়ে চারপাশে নেমে আসে এক ধরনের নীরবতা। দূর থেকে হয়তো ভেসে আসে কোনো গাড়ির শব্দ, কিন্তু তার মাঝেই বোঝা যায় শহরটা যেন ঘুমিয়ে পড়ছে।
তবে এই নীরবতার ভেতরেই জেগে থাকে আরেকটা ব্যস্ত শহর। ঈদের আগের রাত মানেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, আর সেই প্রস্তুতির বড় একটা অংশ চলে রাতভর, চুপচাপ, চোখের আড়ালে।
শহরের অলিগলিতে তখনও খোলা থাকে দর্জির দোকান। সেলাই মেশিনের শব্দে কেটে যায় রাত। একটার পর একটা কাপড় শেষ করার তাড়া। কারণ, সকাল হলেই ঈদ। এই রাতটাই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়।
একই সময়ে সেলুনগুলোতেও ভিড় থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। কেউ চুল কাটছে, কেউ নিজের লুকটা একটু ঠিকঠাক করে নিচ্ছে। ছোট ছোট এই প্রস্তুতিগুলোই আসলে ঈদের দিনের আত্মবিশ্বাস আর আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে।
বেকারিগুলোর ভেতরে তখন অন্যরকম ব্যস্ততা। গরম ওভেন, সাজানো ট্রে, একটার পর একটা খাবার প্রস্তুত হচ্ছে। সেমাই, কেক, পেস্ট্রি – ঈদের দিনের টেবিল সাজাতে যা যা দরকার, সবকিছুর প্রস্তুতি চলে রাত জেগে।
রাস্তায় বের হলেও থেমে থাকে না কাজ। গভীর রাতেও কিছু বাইক ছুটে চলে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ডেলিভারি, পার্সেল, উপহার, সবকিছু ঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
ঈদের আগের এই রাতটা আসলে খুব শান্ত, আবার খুব ব্যস্তও। বাইরে থেকে হয়তো বোঝা যায় না, কিন্তু এই সময়টাতেই তৈরি হয় ঈদের সকালের পুরো আয়োজন।
আমরা ঈদের আনন্দ দেখি সকালে, নতুন জামা, পরিবার, হাসিমুখ। কিন্তু তার পেছনে থাকে একটা রাতভর পরিশ্রমের গল্প। শহর ঘুমিয়ে পড়লেও কিছু মানুষ জেগে থাকে, শুধু এই জন্য সকালের আনন্দটা যেন ঠিকঠাক পৌঁছে যায় সবার।



