বর্তমান সময়ে মুঠোফোন অনেকের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন—সবকিছুর জন্যই আমরা ফোনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার ধীরে ধীরে আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে, যা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সচেতনভাবে মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
এই আসক্তি কমানোর প্রথম ধাপ হলো নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করা। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের শব্দ, ব্যানার বা ভাইব্রেশন বন্ধ করে দিলে বারবার ফোন দেখার প্রবণতা কমে যায়। পাশাপাশি প্রতিদিন কোন অ্যাপ কতক্ষণ ব্যবহার করবেন, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে ফোনের স্ক্রিন-টাইম সীমা নির্ধারণ করলে ব্যবহার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে আসে।
ঘুমের সময় ফোন দূরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অভ্যাস। অনেকেই বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমান, যা ঘুমের মান নষ্ট করে। তাই ফোন সাইলেন্ট করে ঘুমানোর জায়গা থেকে দূরে রাখলে মন ও শরীর দুটোই বিশ্রাম পায়। একইভাবে ফোনের পর্দা গ্রেস্কেল বা সাদা-কালো মোডে ব্যবহার করলে এর আকর্ষণ কমে যায়, ফলে অকারণে ফোন ব্যবহার করার ইচ্ছাও কমে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে চাইলে এসব অ্যাপ হোম স্ক্রিন থেকে সরিয়ে আলাদা ফোল্ডারে রাখা যেতে পারে। এতে চোখের সামনে না থাকায় ব্যবহারও কমে। খুব প্রয়োজন না হলে ফোন দৃষ্টিসীমার বাইরে রাখা এবং সাইলেন্ট করে উল্টো করে রাখা ভালো অভ্যাস গড়ে তোলে।
ফোনের আনলক পদ্ধতি কিছুটা জটিল করলে বারবার খুলে দেখার প্রবণতা কমে। চাইলে ফেইস আইডি বা টাচ আইডি বন্ধ রেখে পাসকোড ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ফোনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখলে নীল আলোর প্রভাব কমে এবং চোখের ওপর চাপও কম পড়ে।
যেসব কাজ কম্পিউটারে করা সম্ভব, সেগুলো ফোনে না করে কম্পিউটার ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুললে ফোনের ওপর নির্ভরতা কমে। বাইরে হাঁটা, ব্যায়াম বা কেনাকাটার সময় অপ্রয়োজনে ফোন সঙ্গে না নেওয়ার অভ্যাস ধীরে ধীরে মানসিক দূরত্ব তৈরি করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের শখকে সময় দেওয়া—বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা বা পরিবারকে সময় দেওয়া। এতে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগ বাড়ে এবং ফোনের ব্যবহার স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। পাশাপাশি ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলা উচিত—প্রতি ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকালে চোখের ক্লান্তি কমে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।



