ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির সাম্প্রতিক ভারত সফর নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। এই সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অর্থায়ন এবং মাঠের বিশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির এই সফরের জন্য মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮৯ কোটি টাকা মেসিকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয় এবং ১১ কোটি টাকা কর বাবদ ভারত সরকারকে পরিশোধ করা হয়।
তদন্তকারীদের শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন, মাঠের অব্যবস্থাপনা এবং দর্শকদের আচরণে মেসি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট ছিলেন। আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, মেসি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে পছন্দ করেন এবং পেছন থেকে স্পর্শ বা জড়িয়ে ধরা তাঁর অপছন্দ। কিন্তু জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বারবার মাইকিং করেও ভিড় সামলানো যায়নি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও প্রভাব খাটিয়ে ঘনিষ্টদের মাঠে ঢোকানো এবং মেসির ব্যক্তিগত পরিসর লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। আয়োজকদের দাবি, শুরুতে মাত্র ১৫০টি গ্রাউন্ড পাস ইস্যু করা হলেও একজন ‘প্রভাবশালী ব্যক্তির’ চাপে সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, যা পুরো নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।
আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে SIT জানিয়েছে, আয়োজক শতদ্রু দত্তের জব্দকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ পাওয়া গেছে। দত্তের দাবি অনুযায়ী, এই অর্থের ৩০ শতাংশ এসেছে স্পন্সরশিপ থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ টিকিট বিক্রি থেকে সংগৃহীত। বর্তমানে তদন্তকারীরা তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করে দেখছেন যে এই বিপুল অর্থের উৎস এবং লেনদেনে কোনো অসঙ্গতি আছে কি না। মূলত নিরাপত্তার অভাব এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসির অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার ঘটনাটি এখন আইনি তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।



