বিশ্বচ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ভারতের কেরালা রাজ্যে আনার লক্ষ্যে বহু মাস ধরে কাজ চলছিল। এ উদ্দেশ্যে ভারতের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাকটিক্যাল ম্যানেজমেন্ট’ আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) প্রায় ২২৫ কোটি টাকা (১৫ মিলিয়ন পাউন্ড) পরিশোধও করে দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে কেরালায় দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল আর্জেন্টিনার।
তবে এখন এএফএ সফর এক বছর পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে নিতে চাচ্ছে, যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কেরালা সরকার ও ভারতীয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি। ট্যাকটিক্যাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্টো অগাস্টিন বলেন, “আমরা জুনেই পুরো অর্থ পরিশোধ করেছি। এখন তারা সফর পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে, যা চুক্তি লঙ্ঘনের সামিল।” তিনি আরও জানান, “আমরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরই মাঠে দেখতে এই অর্থ দিয়েছি। ২০২৬ সালে বিশ্বকাপের আগেই আর্জেন্টিনাকে দেখতে চেয়েছি, তখন তারা চ্যাম্পিয়ন থাকবে কি না, কে জানে!”
কেরালার ক্রীড়া মন্ত্রী ভি আবদুরাহিমান এএফএ’র প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “যদি তারা অক্টোবরের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময়েই আসতে হবে। আগামী বছর কেরালায় নির্বাচন, ফলে মার্চে ম্যাচ আয়োজন অসম্ভব।”
তবে এই সফর পুরোপুরি বাতিল হয়নি। এখনও সম্ভাবনা রয়েছে যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে লিওনেল মেসি কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি ও আহমেদাবাদ সফর করতে পারেন। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল কবে খেলবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
আর্জেন্টিনা দলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক সূচি রয়েছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে, যেখানে তারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ভেনেজুয়েলা ও ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে। এমন অবস্থায় আর্জেন্টিনার ভারতের সফর নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। শুধু একটি চুক্তি ভঙ্গ নয়, এটি লাখো ভক্তের আবেগ ও আস্থার প্রতিও বড় ধাক্কা। এখন দেখার বিষয়—এই সংকটের পরিণতি কী দাঁড়ায়: চুক্তি রক্ষা, না সম্পূর্ণ বাতিল?



