আমাদের দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসই মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় বড় প্রভাব ফেলে। সামান্য কিছু পরিবর্তনই এনে দিতে পারে চোখে পড়ার মতো সুফল। সম্প্রতি টাইমস অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখের স্বাস্থ্য বা ওরাল হাইজিন আমাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত, যা আগে এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয়নি।
গবেষণায় দেখা গেছে, মুখের ভেতরে থাকা জীবাণুর সমষ্টি — যাকে ওরাল মাইক্রোবায়োম বলা হয় — সরাসরি প্রভাব ফেলে স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার ওপর। কিছু উপকারী জীবাণু যেমন নাইসিরিয়া (Neisseria) ও হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা (Haemophilus influenzae) মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে। এরা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড নামের এক গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক তৈরিতে ভূমিকা রাখে, যা মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। এর ফলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পায়, মনোযোগ বাড়ে এবং স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয়।
ভালো মুখের যত্ন শুধু দাঁত ও মাড়িকে নয়, মস্তিষ্ককেও সুরক্ষিত রাখে। গবেষণায় বলা হয়েছে, মুখের জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলে মস্তিষ্কের স্বচ্ছতা ও কর্মক্ষমতাও উন্নত হয়। এজন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুটি বিষয়ে—
১. মুখের সঠিক যত্ন: প্রতিদিন দুইবার দাঁত ব্রাশ করা, নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার এবং মুখের ভেতরের জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখা।
২. নাইট্রেটযুক্ত খাবার খাওয়া: পালং শাক, লাল শাক, বিটরুটের মতো সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজি উপকারী জীবাণু বাড়ায় এবং নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে।
নিয়মিত ওরাল কেয়ারে পাওয়া যায় নানা উপকার—
স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি
মনোযোগ ও চিন্তার স্বচ্ছতা
বয়স বাড়লেও মানসিক স্থিতি ধরে রাখা
গবেষণা বলছে, খাদ্যাভ্যাস ও মুখের স্বাস্থ্য একসাথে কাজ করে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে। নাইট্রেটযুক্ত খাবার মুখের পরিবেশ ভালো রাখে এবং নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদনের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেয়।
অল্প কিছু সহজ অভ্যাস— দাঁত ব্রাশ, মাউথওয়াশ ব্যবহার ও শাকসবজি খাওয়া— বয়স বাড়লেও মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও স্মৃতিশক্তিকে শক্ত রাখার জন্য যথেষ্ট। আমরা দাঁতের সুস্থতার জন্য মুখের যত্ন নেই, কিন্তু এই ছোট্ট অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্কের শক্তি ও কর্মক্ষমতার জন্যও বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। তাই আজ থেকেই মুখের যত্ন শুরু হোক— সুস্থ দাঁতের পাশাপাশি সুস্থ মস্তিষ্কের জন্যও।



