মানুষ কেন পরচর্চা করতে ভালোবাসে, এ নিয়ে আমাদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে। আমরা অনেক সময় না চাইলেও গসিপে জড়িয়ে পড়ি—কখনো বন্ধুর প্রেমের গল্প, আবার কখনো অফিসে সহকর্মীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলাপ করি। কিন্তু কেন মানুষ এই কাজ এত উপভোগ করে?
গবেষণা বলছে, মানুষ নানা কারণে পরচর্চা করে। এর মধ্যে আছে দলগত সম্পর্ক গড়া, বিনোদন পাওয়া, তথ্য আদান-প্রদান, আবেগ প্রকাশ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সবসময় এটি ক্ষতিকর না হয়ে অনেক সময় সমাজে গঠনমূলক ভূমিকা রাখে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মানুষ পরচর্চায় আগ্রহী হওয়ার কিছু কারণ
প্রথমত, এটি সম্পর্ক গড়ার মাধ্যম। যখন আমরা কারও ব্যক্তিগত তথ্য বা মতামত ভাগ করি, তখন পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং দলগত বন্ধন তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, পরচর্চা অনেক সময় বিনোদনের উৎস হিসেবে কাজ করে। তারকাদের বা পরিচিত কারও জীবনের গল্প অনেকের কাছে আনন্দদায়ক। তৃতীয়ত, অন্যের ব্যর্থতা দেখে অনেকেই নিজের জীবনের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। চতুর্থত, গসিপের মাধ্যমে মানুষ সমাজের নিয়মকানুন, মূল্যবোধ এবং সতর্কতামূলক তথ্যও পায়। এছাড়া, জীববৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে—প্রাচীনকালে বেঁচে থাকার কৌশল হিসেবেই মানুষ অন্যের চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করত, যা এখনো টিকে আছে।
পরচর্চা সবসময় কি ক্ষতিকর?
সবসময় নয়। তবে মিথ্যা ছড়ানো, কারও সম্মান নষ্ট করা বা কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য গসিপ করা অবশ্যই ক্ষতিকর। তাই আমাদের উচিত সহানুভূতিশীল হওয়া, অন্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং বিবেকের সঙ্গে কথা বলা।
পরচর্চা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন
অতিরিক্ত গসিপ মানসিক চাপ, উদ্বেগ এমনকি হতাশার কারণ হতে পারে। অনেক সময় অপরাধবোধ বা আতঙ্কও তৈরি করে। তবে কেন এটি এত আনন্দ দেয়? গবেষণায় দেখা গেছে, গসিপের সময় অক্সিটোসিন নামের হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ভালোবাসা ও সহানুভূতির সঙ্গে যুক্ত। এটি আমাদের আনন্দ দেয় এবং সামাজিক বন্ধন বাড়ায়।
যারা সবসময় গসিপ করে, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব, নাটকপ্রিয়তা এবং অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার প্রবণতা থাকে। তারা প্রায়ই অন্যকে ছোট করে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখানোর চেষ্টা করে। অন্যদিকে, গসিপের লক্ষ্যবস্তু হলে আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ক্ষতও তৈরি হতে পারে।
কীভাবে এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
যার সম্পর্কে গসিপ করেছেন, তাকে সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করা, নিজের কর্মের দায় নেওয়া, সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে আচরণ করাই উত্তম উপায়।
অতএব, পরচর্চা মানুষের স্বাভাবিক সামাজিক আচরণ হলেও তা ভালো বা খারাপ নির্ভর করে উদ্দেশ্য ও ব্যবহারের ওপর। সচেতনতা ও সহানুভূতির সঙ্গে এগোতে পারলে এটি সম্পর্ক মজবুত করার মাধ্যম হতে পারে, ক্ষতির নয়।



