মিশরের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী কায়রোর ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম থেকে মুক্তি দিতে মরুভূমির বুক চিরে ছুটছে দেশটির নতুন চালকবিহীন মনোরেল। গত মাসে যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া কায়রো মনোরেল আফ্রিকার প্রথম ড্রাইভারবিহীন মনোরেল নেটওয়ার্ক। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা মনোরেল নেটওয়ার্ক হবে। ইস্ট নাইল রুট নামের ৫৬.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রথম লাইনটি কায়রোর নাসর সিটি এলাকা থেকে নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত গেছে। আর ওয়েস্ট নাইল রুট নামের ৪৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় লাইনটি নির্মাণাধীন, যা ৬ অক্টোবর সিটি থেকে গিজা পর্যন্ত যাবে। দুটি লাইন মিলে মোট দৈর্ঘ্য হবে ১০০.৩ কিলোমিটার, যা চীনের চংকিংয়ের ৯৮.৫ কিলোমিটারের মনোরেলকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ যাত্রী এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৬ মে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এই মনোরেল। উদ্বোধনের পর প্রথম তিন দিন বিনামূল্যে চলার পর চারটি জোনে ভাগ করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ইস্ট নাইল লাইনের পুরো রুটের একমুখী টিকিটের দাম ৮০ মিশরীয় পাউন্ড (প্রায় ১.৫১ ডলার)। ফরাসি কোম্পানি অ্যালস্টমের নেতৃত্বে একটি কনসোর্টিয়াম এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যেখানে মোট ৬৮টি ট্রেন রয়েছে। প্রতি ঘণ্টায় প্রতি দিকে ৪৫ হাজার যাত্রী বহন করতে সক্ষম এই মনোরেলের সর্বোচ্চ গতি ৮০ কিলোমিটার। এটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও ড্রাইভারবিহীন, এবং ব্রেকিং শক্তির ৯৯ শতাংশ পুনরুদ্ধার করতে পারে।
প্রকল্পটি মূলত ২০২৩ সালে চালু হওয়ার কথা থাকলেও বেশ কয়েকবার বিলম্ব হয়েছে। মিশরের অর্থনৈতিক সংকটের সময় বড় বড় অভ্যন্তরীণ প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। তবে অ্যালস্টম মিশরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামি সালাহ এলদিন বলেছেন, পূর্ব নীল মনোরেল মিশরের ভিশন ২০৩০-এর টেকসই ও ভবিষ্যৎমুখী নগর পরিবহনের একটি বড় মাইলফলক। তিনি মনে করেন, এই মনোরেল আফ্রিকার অন্যান্য দ্রুত নগরায়িত শহরের জন্য ‘পরিচ্ছন্ন, উচ্চ-ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গতিশীলতার’ উদাহরণ হতে পারে।



